কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলাকে জেলা ঘোষণার দাবিতে রেলস্টেশন অবরোধ চলাকালে যাত্রীবাহী উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছে ভৈরবের সর্বস্তরের ছাত্র-জনতা।
বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ভৈরব পৌরসভা চত্বরের শহীদ মিয়ার প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক মোমবাতি প্রজ্বালন কর্মসূচিতে তারা রেল কর্তৃপক্ষের নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
এর আগে গত সোমবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে নোয়াখালী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী আন্তঃনগর উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনটি ভৈরব স্টেশনে বিক্ষুব্ধ জনতার রোষে পড়ে। তখন অবরোধ চলমান অবস্থায় ট্রেন চালু করলে বিক্ষোভকারীরা উত্তেজিত হয়ে ট্রেনের ইঞ্জিন লক্ষ করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে।
ওই ঘটনায় স্টেশন মাস্টার অজ্ঞাত ১৫০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় এ পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মোমবাতি প্রজ্বালন কর্মসূচিতে ভৈরব জেলা বাস্তবায়ন কমিটির পক্ষে সাইফুর রহমান শাহরিয়া উপকূল ট্রেন ও রেলওয়ের সকল কর্তৃপক্ষের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করেন। একইসঙ্গে তিনি স্টেশন মাস্টার ও ট্রেনের চালককে ওই ঘটনার জন্য দায়ী করেন।
তিনি বলেন, ‘ট্রেনের চালক ট্রেনটিকে চালিয়ে নেওয়ার সময় ওই অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটে। যদি স্টেশন মাস্টার ও চালক কিছুক্ষণ ধৈর্য্যধারণ করতো তাহলে ওই রকম পরিস্থিতি হতো না।’ ওই ঘটনায় করা মামলা প্রত্যাহারের পাশাপাশি গ্রেপ্তারদের মুক্তি দাবি করেন তিনি।
সন্ধ্যা ছয়টা থেকে সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত চলা এই মোমবাতি প্রজ্জ্বালন কর্মসূচিতে আরো বক্তব্য রাখেন সংগঠক—মহিউদ্দিন, সাইফুর রহমান শাহরিয়া ও মো. জাহিদুলসহ প্রমুখ।
কর্মসূচি থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়, শুক্রবার জুমার নামাজের পর ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দূর্জয় চত্বরে ভৈরবকে জেলা বাস্তবায়নে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করা হবে।
প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালে তৎকালীন সরকার ভৈরবকে জেলা ঘোষণার জন্য একটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা কমিটি গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল। পরবর্তীতে রাজনৈতিক কারণে উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হয়নি।