দীর্ঘ চার দশকের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, মানবিক কর্মকাণ্ড ও জনগণের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক তাকে এনে দিয়েছে আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা ।
খুলনা-৬ (কয়রা-পাইকগাছা) আসনের রাজনৈতিক মাঠ এখন সরব। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও সম্ভাব্য প্রার্থী এ্যাডভোকেট মোমরেজুল ইসলামকে ঘিরে ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। স্থানীয় রাজনীতির এই অভিজ্ঞ নেতা এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা
১৯৭৯ সালে খুলনা জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক হিসেবে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন এ্যাডভোকেট মোমরেজুল ইসলাম। এরপর বিএনপির নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন টানা চার দশকেরও বেশি সময় ধরে। তিনি ছিলেন—
১৯৯১ সালে কয়রা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক
১৯৯২ সালে খুলনা জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক
১৯৯৭ সালে যুগ্ম সম্পাদক
২০০৯ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত কয়রা থানা বিএনপির সভাপতি ও আহবায়ক
বর্তমানে খুলনা জেলা বিএনপির ১ম যুগ্ম আহবায়ক।
দলের অভ্যন্তরে তার সুনাম ও নেতৃত্বের গুণে তিনি এখন স্থানীয় রাজনীতিতে একটি নির্ভরযোগ্য নাম।
মানুষের আস্থা ও জনপ্রিয়তা
কয়রা-পাইকগাছার সাধারণ মানুষ মনে করেন, মোমরেজুল ইসলাম শুধু রাজনীতিবিদ নন—তিনি একজন সমাজসেবকও।
স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়সহ বিভিন্ন ধর্ম ও পেশার মানুষ তার প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছেন।
একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন
“তিনি আমাদের পাশে ছিলেন সব সময়। ধর্ম-বর্ণের কোনো পার্থক্য করেননি।”
একইভাবে, স্থানীয় শিক্ষকরা জানিয়েছেন
“তিনি ছাত্রছাত্রীদের জন্য সাহায্য করেছেন, স্কুলের উন্নয়নে কাজ করেছেন।”
এই মানবিক ও আন্তরিক আচরণই তার জনপ্রিয়তার মূল কারণ বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
আইন পেশায় অবদান
২০১৪ সাল থেকে খুলনা মহানগর ও জেলার রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলার প্রধান আইনজীবী হিসেবে বিনামূল্যে আইনি সহায়তা দিচ্ছেন এ্যাডভোকেট মোমরেজুল ইসলাম।
স্থানীয়দের ভাষায়
“তিনি ন্যায়ের লড়াইয়ে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, বিনামূল্যে পরামর্শ দিয়েছেন।”
এতে সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিকভাবে হয়রানির শিকার কর্মীরা ব্যাপক উপকৃত হয়েছেন।
আন্দোলন ও সাহসিক ভূমিকা
১৯৯৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কয়রায় বিদ্যুৎ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি সার্বিক দায়িত্ব পালন করেন।
এছাড়া শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জানাজা, বিচারপতি আঃ সাত্তার সাহেবের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন, ১৯৯৭ সালের লং মার্চ এবং এরশাদবিরোধী আন্দোলনে তার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
২০১৭ সালে রাজনৈতিক কারণে মিথ্যা মামলায় কারাবরণ করেন তিনি। তবু পিছিয়ে যাননি—বরং আরও দৃঢ় মনোভাব নিয়ে জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
নির্বাচনী সমনির্বাচনী সম্ভাবনা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, খুলনা-৬ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেলে ধানের শীষ প্রতীকে এ্যাডভোকেট মোমরেজুল ইসলামের জয়ের সম্ভাবনা প্রবল।
তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, জনপ্রিয়তা ও স্থানীয় জনগণের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক তাকে প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে এগিয়ে রেখেছে।
ভোটাররা বলছেন
“তার প্রচারণা শুধু রাজনীতি নয়, মানুষের সঙ্গে হৃদয়ের সম্পর্ক গড়ে তোলে।”
সমাজসেবা ও মানবিক কার্যক্রম
১৯৮৫ সাল থেকে তিনি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ও নাগরিক সেবায় নানা উদ্যোগ নিয়েছেন।
একজন শিক্ষক বলেন
“তিনি আমাদের বিদ্যালয়ের উন্নয়নে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন।”
একজন ব্যবসায়ী যোগ করেন
“তিনি সবসময় ব্যবসায়ীদের সমস্যার প্রতি সহানুভূতিশীল।”
এই ধারাবাহিক মানবিক কাজই তাকে সাধারণ মানুষের প্রিয় নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
দলের ভেতরে অবস্থান ও চ্যালেঞ্জ
বিএনপির অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, মোমরেজুল ইসলাম দলের পরীক্ষিত কর্মী হিসেবে শীর্ষ পর্যায়ে মূল্যায়িত হচ্ছেন।
তবে মনোনয়ন প্রক্রিয়া ও প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর কৌশলই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে আসন্ন নির্বাচনের ফলাফল।
দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, জনগণের আস্থা, মানবিক কার্যক্রম ও সাহসী নেতৃত্ব—সব মিলিয়ে এ্যাডভোকেট মোমরেজুল ইসলাম এখন খুলনা-৬ আসনের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় প্রার্থী।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ভাষায়
“এই নির্বাচনে মোমরেজুল ইসলামের অংশগ্রহণ শুধু একটি প্রার্থিতার গল্প নয়, এটি জনগণের আস্থা ও পরিবর্তনের প্রতীক।”