জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রাণী-উদ্ভিদের সুরক্ষা জরুরি: চিফ হুইপ
ঢাকা, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬:
মানুষের জীবনধারণ, খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্রাণিবিজ্ঞান ও জীববিজ্ঞানের গুরুত্ব অপরিসীম বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেছেন, সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রাণী ও উদ্ভিদকূলের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি।
শনিবার ঢাকার নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে জ্যুলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশ আয়োজিত সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চিফ হুইপ বলেন, মানুষের খাদ্য, পরিবেশ এবং জীবনযাপনের সঙ্গে জীববিজ্ঞানের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও খাদ্যব্যবস্থার সঙ্গে বিভিন্ন প্রাণী এবং উদ্ভিদের সরাসরি যোগ রয়েছে। তাই জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণকে শুধু পরিবেশ রক্ষার বিষয় হিসেবে দেখলে হবে না; এর সঙ্গে মানুষের খাদ্য ও জীবনধারণের নিরাপত্তাও জড়িত।
তিনি বলেন, খাদ্য মানুষের বেঁচে থাকার অন্যতম মৌলিক প্রয়োজন। আর মানুষের খাদ্যসংস্থানের বড় একটি অংশ উদ্ভিদ ও প্রাণীজগতের ওপর নির্ভরশীল। মাছ, মাংস এবং বিভিন্ন উদ্ভিদজাত খাদ্য মানুষের পুষ্টির গুরুত্বপূর্ণ উৎস। ফলে প্রাণী ও উদ্ভিদ প্রজাতির সুরক্ষা নিশ্চিত করার অর্থ হলো মানুষের খাদ্যব্যবস্থা ও জীবনধারণের ভিত্তিকেও সুরক্ষিত রাখা।
গবেষণা ও উদ্ভাবনে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান
জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য গবেষণা ও উদ্ভাবনের পরিধি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন চিফ হুইপ। তিনি বলেন, প্রাণিবিজ্ঞান ও জীববিজ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে আরও গবেষণা প্রয়োজন। নতুন জ্ঞান ও বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ এবং পরিবেশগত সংকট মোকাবিলায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব।
তরুণ প্রজন্মকে গবেষণা ও উদ্ভাবনে যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর মতে, দেশের তরুণদের মধ্যে বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো গেলে জীববৈচিত্র্য রক্ষার পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নেও তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
চিফ হুইপ বলেন, তরুণ গবেষক ও উদ্ভাবকদের নতুন নতুন ধারণা বাস্তবায়নের সুযোগ দিতে হবে। টেকসই গবেষণার মাধ্যমে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নতুন পথ তৈরি করা সম্ভব।
বাংলাদেশের বৈচিত্র্যময় বাস্তুতন্ত্র
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, নদী, হাওর, বন, পাহাড়, জলাভূমি ও সুন্দরবন দেশের গুরুত্বপূর্ণ বাস্তুতন্ত্রের অংশ। এসব অঞ্চলে অসংখ্য প্রাণী ও উদ্ভিদ প্রজাতির আবাস রয়েছে।
তিনি বলেন, প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্রের কোনো একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে এর প্রভাব অন্য অংশেও পড়তে পারে। তাই পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্রাণী, উদ্ভিদ এবং তাদের আবাসস্থল সংরক্ষণ করতে হবে।
জীববৈচিত্র্যের ওপর পরিবেশগত চাপ কমাতে প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি তুলে ধরেন।
মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণও গুরুত্বপূর্ণ
চিফ হুইপ বলেন, রাজনীতি কিংবা তাত্ত্বিক আলোচনার বাইরেও সাধারণ মানুষের অন্ন, বস্ত্র, চিকিৎসা এবং সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের অংশ।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণের পাশাপাশি নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করা গেলে উন্নয়নের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব। এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে বিভিন্ন কাজ করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। নিরাপদ পরিবেশ, পর্যাপ্ত খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা এবং শিক্ষার সুযোগ মানুষের সামগ্রিক কল্যাণের সঙ্গে সম্পর্কিত।
প্রকৃতি রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগ
বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকারি প্রতিষ্ঠান, গবেষক, শিক্ষাবিদ, পরিবেশবিদ এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে বক্তব্যে গুরুত্ব দেন চিফ হুইপ।
তিনি বলেন, দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করতে হলে এখন থেকেই সচেতনতা বাড়াতে হবে। প্রাণী ও উদ্ভিদের আবাসস্থল রক্ষা, পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার মাধ্যমে প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তরুণদের গবেষণামুখী করে গড়ে তোলার পাশাপাশি তাদের উদ্ভাবনী চিন্তা কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরির ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।
চিফ হুইপের মতে, বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা ও উদ্ভাবন শুধু জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেই নয়, দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতিতেও ভূমিকা রাখতে পারে। তাই প্রাণিবিজ্ঞান ও জীববিজ্ঞানের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গবেষণার পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে এ ক্ষেত্রে উৎসাহিত করতে হবে।
সাধারণ সভায় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, প্রাণী ও উদ্ভিদের সুরক্ষা এবং গবেষণার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা হয়। অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের গবেষক, শিক্ষক ও বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা অংশ নেন।