যৌন উত্তেজক ওষুধ তৈরি-সংরক্ষণ: এনসিপি নেতার ৬ মাসের কারাদণ্ড
অবৈধভাবে ওষুধ তৈরি ও মেয়াদোত্তীর্ণ যৌন উত্তেজক ওষুধ সংরক্ষণের অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ফরিদপুরের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. বায়েজিদ হোসেন শাহেদকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট মোল্লা বাড়ি সড়ক এলাকায় বায়েজিদের মালিকানাধীন মেসার্স জনতা ল্যাবরেটরিজ নামের একটি কারখানায় অভিযান চালানো হয়। অভিযান শেষে ভ্রাম্যমাণ আদালতের দেওয়া দণ্ড অনুযায়ী তাকে ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইনসানা তানজীন ইকোর নেতৃত্বে কারখানাটিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে কারখানায় অনুমোদনহীনভাবে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ উৎপাদন ও সংরক্ষণের তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্র।
দণ্ডপ্রাপ্ত মো. বায়েজিদ হোসেন শাহেদ ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার হাবিবুর রহমানের ছেলে। বর্তমানে তিনি ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট এলাকায় বসবাস করেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই মেসার্স জনতা ল্যাবরেটরিজ নামে ওই কারখানাটি পরিচালনা করে আসছিলেন বায়েজিদ। দীর্ঘ সময় ধরে অনুমোদন ছাড়া কারখানাটি পরিচালনার অভিযোগের বিষয়টিও অভিযানের সময় সামনে আসে।
অভিযানকালে কারখানাটিতে শিশুদের জন্য বেবি জেল, প্রাপ্তবয়স্কদের বিভিন্ন ধরনের যৌন উত্তেজক ওষুধ এবং বিভিন্ন ধরনের আয়ুর্বেদিক ওষুধ তৈরির প্রমাণ পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় বিপুল পরিমাণ অবৈধ ওষুধ উদ্ধার করা হয়েছে বলেও কর্মকর্তারা জানান।
অভিযান পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইনসানা তানজীন ইকো বলেন, ১৯৫৬ সালের অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৬(১) ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে কারখানাটিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে বিভিন্ন ধরনের অবৈধ ওষুধ পাওয়া গেছে। পরে আইন অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বায়েজিদ হোসেনকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানের সময় কারখানায় উৎপাদন ও সংরক্ষণ করা বিভিন্ন পণ্যের বৈধতা এবং অনুমোদনের বিষয়গুলোও যাচাই করা হয়। সেখানে অনুমোদন ছাড়া ওষুধ উৎপাদনের অভিযোগ পাওয়ায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে এনসিপি নেতার বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের দণ্ডের ঘটনায় দলের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ফরিদপুর জেলা এনসিপির সদস্য সচিব সাইফ হাসান খান।
তিনি বলেন, কোনো ধরনের অন্যায়ের সঙ্গে তাদের দলের আপস নেই। দলের কোনো সদস্য অন্যায় করলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দলীয় সূত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ বা আইনগত ব্যবস্থার বিষয়টি দলীয় অবস্থানের বাইরে বিবেচনা করা হবে। আইন অনুযায়ী যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে দলের পক্ষ থেকেও সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
এ ঘটনায় অবৈধভাবে ওষুধ উৎপাদন ও সংরক্ষণের বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনুমোদন ছাড়া ওষুধ উৎপাদন ও বাজারজাতের সঙ্গে জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি সরাসরি জড়িত। তাই এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিয়মিত নজরদারি ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট এলাকায় পরিচালিত অভিযানে কারখানা থেকে উদ্ধার করা পণ্য ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাইয়ের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। অভিযানের পর ভ্রাম্যমাণ আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান অনুসরণ করেই অভিযানের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অনুমোদন ছাড়া ওষুধ উৎপাদন বা সংরক্ষণের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।