রহস্য, ভয় আর অনিশ্চয়তায় সিদ্ধার্থ-তামান্নার ‘দ্য ভান’
বিনোদন ডেস্ক
দিনের বেলায় শান্ত-নিরিবিলি একটি জঙ্গল। গাছের পাতার ফাঁক দিয়ে সূর্যের আলো, পাখির ডাক আর বাতাসের স্বাভাবিক শব্দে সেখানে ভয়ের কিছুই মনে হয় না। কিন্তু সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায় সেই পরিবেশ। ঘন অন্ধকারে চারপাশের শব্দ হয়ে ওঠে অচেনা। স্থানীয় লোককথায় ছড়িয়ে থাকা নানা গল্পও তখন যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পায়। এমনকি সূর্যাস্তের পর ওই এলাকায় মানুষের প্রবেশ নিয়েও রয়েছে নিষেধাজ্ঞা।
বাস্তবের এমনই একটি লোকবিশ্বাসকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে সিদ্ধার্থ মালহোত্রা ও তামান্না ভাটিয়া অভিনীত নতুন সিনেমা ‘দ্য ভান: ফোর্স অব দ্য ফরেস্ট’। সম্প্রতি প্রকাশিত সিনেমাটির টিজার ও ট্রেলারে রহস্যময় জঙ্গল, অজানা বিপদ এবং একের পর এক নাটকীয় ঘটনার আভাস পাওয়া গেছে। ফলে সিনেমাটি নিয়ে দর্শকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে আগ্রহ।
‘দ্য ভান’-এর গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে এমন এক চরিত্র, যে একটি সংরক্ষিত জঙ্গলে প্রবেশ করে দীর্ঘদিনের একটি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে। এরপর থেকেই বদলে যেতে থাকে পরিস্থিতি। জঙ্গলের স্বাভাবিক পরিবেশ ধীরে ধীরে রূপ নেয় রহস্যময় ও আতঙ্কজনক এক জগতে। সামনে আসতে থাকে অজানা ঘটনা, ভয় এবং অনিশ্চয়তা।
তবে সিনেমার গল্পের ভিত্তি পুরোপুরি কাল্পনিক নয়। ভারতের বিহারের পাটনার কাছাকাছি অবস্থিত একটি প্রাচীন বনদেবী মন্দিরকে ঘিরে থাকা লোককথা থেকেই নির্মাতারা গল্পের প্রাথমিক ধারণা পেয়েছেন বলে জানা গেছে। প্রায় ৪০০ বছরের পুরোনো এই মন্দিরটি স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত একটি ধর্মীয় স্থান। মন্দিরকে ঘিরে প্রচলিত নানা বিশ্বাসের মধ্যে সূর্যাস্তের পর সেখানে প্রবেশ না করার বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচিত।
স্থানীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, সূর্য ডোবার পর মন্দির এলাকায় বনদেবীর বিচরণ ঘটে। তাই সন্ধ্যার পর সেখানে মানুষের উপস্থিতি নিষিদ্ধ। মন্দিরের দরজা বন্ধ হয়ে গেলে পুরোহিতরাও স্থানটি ছেড়ে চলে যান এবং রাতে সেখানে অবস্থানের অনুমতি নেই। সময়ের সঙ্গে এই বিশ্বাস স্থানীয় একটি কঠোর নিয়মে পরিণত হয়েছে।
‘দ্য ভান’-এর নির্মাতারা এই লোকবিশ্বাসকেই সিনেমার রহস্য তৈরির অন্যতম ভিত্তি হিসেবে নিয়েছেন। পরিচালক অরুণাভ কুমার জানিয়েছেন, শুধু লোকমুখে প্রচলিত গল্পের ওপর নির্ভর না করে তিনি নিজে মন্দিরে গিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুরোহিতদের সঙ্গে কথা বলে মন্দিরের ইতিহাস, বিশ্বাস এবং প্রচলিত কাহিনি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেছেন।
নির্মাতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় দুই বছর আগে অরুণাভ কুমার গল্পটির ধারণা পরিচালক দীপক কুমার মিশ্রের সঙ্গে ভাগ করে নেন। বিষয়টি দুজনের কাছেই আকর্ষণীয় মনে হয়। পরে তারা প্রযোজক একতা কাপুরের কাছে গল্পটি উপস্থাপন করেন। তিনিও গল্পটিকে বড় পর্দায় আনার বিষয়ে আগ্রহ দেখান। এরপর বাস্তব লোকবিশ্বাসের সঙ্গে নির্মাতাদের কল্পনা, রহস্য ও নাটকীয়তা যুক্ত হয়ে তৈরি হতে থাকে সিনেমাটির নিজস্ব জগৎ।
ছবিটির বড় একটি অংশজুড়ে রয়েছে জঙ্গল। তাই শুধু বাস্তব লোকেশনে শুটিং করে কাঙ্ক্ষিত পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব হয়নি। সিনেমার ভিজ্যুয়াল জগতকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে প্রযুক্তি ও অ্যানিমেশনের ব্যবহার করা হয়েছে। পরিচালক দীপক কুমার মিশ্রের ভাষ্য অনুযায়ী, অরুণাভের কাছ থেকে গল্প শোনার সময় তাঁর মাথায় বিভিন্ন দৃশ্যের কল্পনা তৈরি হতে থাকে। পরবর্তী সময়ে সেই কল্পনাগুলোকে পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে কারিগরি প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
নির্মাতাদের দাবি, দর্শক সিনেমাটি দেখার সময় প্রতিটি দৃশ্যে প্রযুক্তির ব্যবহার আলাদা করে বুঝতে নাও পারেন। তবে পর্দায় যে রহস্যময় জঙ্গল ও পরিবেশ দেখা যাবে, তা তৈরির পেছনে রয়েছে দীর্ঘ প্রস্তুতি এবং ব্যাপক কারিগরি কাজ।
সিনেমাটির অন্যতম আকর্ষণ সিদ্ধার্থ মালহোত্রা ও তামান্না ভাটিয়ার জুটি। দুজনই গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করছেন। রহস্যে ঘেরা জঙ্গলের সঙ্গে তাদের চরিত্রের সম্পর্ক কীভাবে তৈরি হয় এবং নিষিদ্ধ সেই পরিবেশে তাদের সামনে কী ধরনের পরিস্থিতি আসে—সেটিই সিনেমার অন্যতম কৌতূহলের জায়গা।
‘দ্য ভান’-এ শুধু ভয় বা আতঙ্ক নয়, লোকবিশ্বাস, প্রাচীন কাহিনি এবং প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্কও গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উঠে আসতে পারে। প্রকৃতির প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা ও ভয়—এই দুই অনুভূতির টানাপোড়েনও সিনেমাটির গল্পে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে বাস্তব একটি স্থানকে ঘিরে থাকা লোকবিশ্বাসের সঙ্গে কল্পনা ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে তৈরি ‘দ্য ভান’ দর্শকদের সামনে রহস্য ও অনিশ্চয়তায় ভরা এক ভিন্ন জগৎ তুলে ধরতে যাচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, বড় পর্দায় সেই রহস্যময় জঙ্গল ও নিষেধাজ্ঞার গল্প দর্শকদের কতটা আকৃষ্ট করতে পারে।