রাজশাহীতে ছেলের হাসুয়ার কোপে মা নিহত, বাবা হাসপাতালে
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় পারিবারিক বিরোধের জেরে ধারালো হাসুয়া দিয়ে মা-বাবার ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় হাসুয়ার কোপে মা নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় বাবাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর অভিযুক্ত ছেলেকে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১টার দিকে মোহনপুর উপজেলার মৌগাছি ইউনিয়নের সরদারপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত নারীর নাম জান্নাতুন (৫৫)। তিনি ওই গ্রামের মুজিব সরদারের স্ত্রী। এ ঘটনায় তাঁর স্বামী মুজিব সরদার গুরুতর আহত হয়েছেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত আমিনুল ইসলাম (৩২) দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। মাদক সেবনকে কেন্দ্র করে তিনি প্রায়ই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদে জড়িয়ে পড়তেন। মাদক সেবনের পাশাপাশি মাদক কারবারসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার দিন রাতেও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আমিনুল ইসলামের কথা-কাটাকাটি ও ঝগড়া হয় বলে জানা গেছে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তিনি ঘরে থাকা ধারালো হাসুয়া হাতে নেন। এরপর মায়ের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে।
হাসুয়ার আঘাতে জান্নাতুন গুরুতর আহত হন। পরে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে স্থানীয়রা জানান।
স্ত্রীর ওপর হামলার ঘটনা দেখে তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন মুজিব সরদার। এ সময় আমিনুল তাঁর বাবার ওপরও হামলা চালান বলে অভিযোগ রয়েছে। হাসুয়ার কোপে মুজিব সরদার গুরুতর আহত হন।
তাঁর চিৎকার ও পরিবারের সদস্যদের আহাজারি শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে তাঁরা আহত মুজিব সরদারকে উদ্ধার করে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
ঘটনার খবর পেয়ে মোহনপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত আমিনুল ইসলামকে আটক করা হয়।
রাজশাহীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) হেলেনা আকতার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মাকে ধারালো হাসুয়া দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে আমিনুল ইসলামকে মোহনপুর থানা পুলিশ আটক করেছে।
তিনি আরও জানান, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে অভিযুক্তকে আদালতে পাঠানো হবে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, আমিনুল দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। মাদক সেবনকে কেন্দ্র করে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাঁর বিরোধ লেগেই থাকত। তবে ঠিক কী কারণে ঘটনার রাতে তিনি মা-বাবার ওপর হামলা চালিয়েছেন, তা তদন্তের মাধ্যমে জানা যাবে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত করা হচ্ছে। হামলায় ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ও খতিয়ে দেখা হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একই পরিবারের মা নিহত এবং বাবা গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের কাছ থেকে ঘটনার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে পুলিশ।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিহতের মরদেহের পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করা হবে।
এদিকে, মাদকাসক্তির কারণে পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল কি না, কিংবা এর আগে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেছিল কি না—এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আসতে পারে। পাশাপাশি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মাদক কারবার বা অন্য কোনো অপরাধে পূর্বের অভিযোগ বা মামলা রয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করা হবে।
মোহনপুর থানার পুলিশ ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে। পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের পর অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমানে অভিযুক্ত আমিনুল ইসলাম আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে রয়েছেন। তাঁকে আদালতে হাজির করার পর আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
ঘটনার বিষয়ে পুলিশের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট তথ্য নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে প্রাথমিকভাবে পারিবারিক বিরোধের সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র।