ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে অবৈধ ভেকু বিনষ্টের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ভেকু মালিক ক্ষুব্ধ হয়ে দুইজন সাংবাদিকের নামে থানায় মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করায় স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ বিব্রত ও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জালাল উদ্দিনের নির্দেশনায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) যায়েদ হোসেন থানার সঙ্গীয় পুলিশ ফোর্স নিয়ে গত শুক্রবার চরভদ্রাসন উপজেলার মাথাভাঙ্গা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে একটি অবৈধ ভেকু মেশিন বিনষ্ট করা হয়।
এই ঘটনার সংবাদ জাতীয় দৈনিক মাত্রা পত্রিকাসহ বিভিন্ন অনলাইন ও মাল্টিমিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ভিডিও রিপোর্ট আকারে প্রকাশিত হয়।
এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ভেকু মালিক রায়হান চরভদ্রাসন থানায় দুইজন সাংবাদিকের নামে ভেকু ভাঙচুর ও চাঁদা দাবির অভিযোগ এনে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
তবে স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, অভিযানের সময় ওই দুই সাংবাদিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। এমনকি ভেকু মালিকদের সঙ্গে ওই সাংবাদিকদের দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কোনো ধরনের যোগাযোগ বা কথাবার্তাও হয়নি।
এ বিষয়ে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনাকারী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) যায়েদ হোসেন বলেন,
“যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে, তারা ঘটনাস্থলেই ছিল না। তাহলে তাদের নামে অভিযোগ আসলো কীভাবে? আর সেখানে অবৈধ ভেকু থাকাটাই বা কীভাবে সম্ভব?”
তিনি আরও জানান, অভিযানে সাংবাদিকদের কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জালাল উদ্দিন বলেন,
“অবৈধভাবে মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত ভেকু মালিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে চরভদ্রাসন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান,
“ভেকু মালিক রায়হান থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে এসআই এনামুল হকসহ আমি নিজে তদন্ত করেছি। তদন্তে দেখা গেছে, ভেকু ভাঙচুর বা চাঁদাবাজির সঙ্গে অভিযুক্ত দুই সাংবাদিকের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।”
এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অবৈধ ভেকু দিয়ে মাটি কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সাংবাদিকদের সম্মানহানির অপচেষ্টা বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।