জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্র
ইরানের কূটনৈতিক প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে তিনি সেখানে গেছেন বলে জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর এবারই প্রথম দেশটির এত উচ্চপর্যায়ের কোনো কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রে গেলেন। নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন আব্বাস আরাগচি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফোনালাপে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের আলোচ্যসূচি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিনিময় হয়। চলমান আঞ্চলিক পরিস্থিতির মধ্যেই জাতিসংঘের অধিবেশনে ইরানের অংশগ্রহণকে ঘিরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশেষ গুরুত্ব তৈরি হয়েছে।
নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর ইরানি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আব্বাস আরাগচি। এ সময় তিনি বলেন, ইরানি জনগণের বৈধতা, অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় একটি বড় আন্তর্জাতিক মঞ্চকে কাজে লাগানোই তাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।
আরাগচির এই সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশ নিচ্ছেন। ফলে আন্তর্জাতিক এই মঞ্চকে কূটনৈতিক যোগাযোগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে ইরান।
এর আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছিল, দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিয়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেবেন। তবে তার যোগাযোগ দলের সদস্যসহ ইরানি প্রতিনিধিদলের কয়েকজন সদস্যকে যুক্তরাষ্ট্র ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে বলেও তখন জানানো হয়েছিল।
পরবর্তী সময়ে ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব নিয়ে পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসে। আরাগচি নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই তাকে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ‘কূটনৈতিক প্রতিনিধিদলের প্রধান’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
ইসমাইল বাঘাই জানান, সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশের কর্মকর্তা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে আরাগচি আলোচনা ও পরামর্শ করবেন। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে ইরানের অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে ইরানের একটি প্রতিনিধিদলকে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে গত বছরের মতো এবারও ওই প্রতিনিধিদলের ওপর কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিষয়ে উত্তেজনা ও মতবিরোধ রয়েছে। এর সঙ্গে ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এমন পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন ইরানের জন্য নিজেদের অবস্থান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সুযোগ হয়ে উঠেছে।
আব্বাস আরাগচি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। নিউইয়র্ক সফরে বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার বৈঠক ও আলোচনার বিষয়টি তাই গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা, আঞ্চলিক সংঘাত ও অন্যান্য বৈশ্বিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেন। এবারের অধিবেশনে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়গুলোর একটি হতে পারে।
ইরানের পক্ষ থেকে তাদের জনগণের অধিকার ও জাতীয় স্বার্থের বিষয়গুলো আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আরাগচির আলোচনায় আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় উঠে আসতে পারে।
আরাগচির নিউইয়র্ক সফর এবং জাতিসংঘের অধিবেশনে ইরানের অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশটির কূটনৈতিক তৎপরতা আরও দৃশ্যমান হয়েছে। তবে অধিবেশন চলাকালে ইরানের পক্ষ থেকে কী ধরনের বক্তব্য দেওয়া হয় এবং অন্যান্য দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় কী বিষয় উঠে আসে, সেটিই এখন নজর রাখার বিষয়।