ফরিদপুর প্রতিনিধি: আব্দুস সালাম মোল্লা
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার দক্ষিণ আলমনগর এলাকায় আদালতের দেওয়া জমির নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা এবং এতে পুলিশ সহযোগিতা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে দায়ের করা দেওয়ানি মামলায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা চলমান থাকা অবস্থায় এ ঘটনা ঘটছে বলে দাবি করেছেন মামলার আবেদনকারী মো. হামেদ মৃধা।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগকারী পক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সদরপুর উপজেলার ২৮ নম্বর দক্ষিণ আলমনগর মৌজার খতিয়ান নম্বর ৯৭-এর দাগ নম্বর ৪১৩-এ ১৩ শতাংশ নাল জমি রয়েছে। একই খতিয়ানের দাগ নম্বর ১০৪-এ রয়েছে ২৬ শতাংশ জমি। এর মধ্যে ১৯ দশমিক ৫০ শতাংশ জমি নিয়ে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট জমির দলিল নম্বর ৩০২৬, তারিখ ১৯৬৫ এবং দলিল নম্বর ৬৩৫, তারিখ ১৯৬৭।
দক্ষিণ আলমনগর গ্রামের মৃত আব্দুর রহমান মৃধার ছেলে মো. হামেদ মৃধা জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে দেওয়ানি মামলা নম্বর ১৫০/২০২৫ দায়ের করেন। ওই মামলায় সংশ্লিষ্ট জমির বিষয়ে আদালত থেকে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে বলে অভিযোগকারী পক্ষের দাবি।
হামেদ মৃধার অভিযোগ, আদালতের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকা অবস্থায় ওই জমিতে ঘর নির্মাণের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ কাজে সদরপুর থানার একজন উপপরিদর্শক সহযোগিতা করছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তার দাবি, এসআই আহসান নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি জানার পরও নির্মাণকাজ বন্ধ করার পরিবর্তে তাকে উল্টো ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে।
তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এ অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে সদরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন শাহের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে আদালতের নিষেধাজ্ঞা চলমান থাকা অবস্থায় সেখানে পুলিশ ঘর নির্মাণে সহযোগিতা করছে—এমন অভিযোগের বিষয়ে তিনি সন্তোষজনক কোনো উত্তর দিতে পারেননি বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) রেজওয়ান দীপুকেও অবহিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি জানানো হলেও পুলিশ সেখানে যেতে পারছে না বলে তাকে জানানো হয়।
এদিকে জমিতে ঘর নির্মাণের চেষ্টার অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকের সঙ্গে এক ব্যক্তির বিরোধের সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, গত ৮ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টার দিকে চরভদ্রাসন উপজেলা পোস্ট অফিস সংলগ্ন এলাকায় দক্ষিণ আলমনগর গ্রামের মৃত বাদশা মীরের ছেলে লিটন মীর (৪০) প্রতিবেদকের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন এবং বিএনপি, আদালত ও সাংবাদিককে নিয়ে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন।
এ ঘটনায় ওই সাংবাদিক লিটন মীরের বিরুদ্ধে চরভদ্রাসন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলে জানা গেছে।
চরভদ্রাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফর আলী বিষয়টি তদন্তের জন্য থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই এনামুল হকের কাছে দায়িত্ব দেন। পরে তদন্ত শেষে ঘটনাটি নন-এফআইআর মামলা হিসেবে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জমি নিয়ে বিরোধের পাশাপাশি আদালতের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, আদালতের আদেশ বহাল থাকা অবস্থায় কোনো পক্ষ যেন জমিতে নির্মাণকাজ বা অন্য কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করতে না পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
অন্যদিকে, পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য এবং আদালতের আদেশের বিস্তারিত নথি যাচাই করে পরবর্তী সময়ে প্রকৃত ঘটনা আরও স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
এ বিষয়ে অভিযোগকারী হামেদ মৃধা আদালতের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখা এবং জমিতে নির্মাণকাজ বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।