মোংলা বন্দরে আমদানি-রপ্তানি বাড়াতে বিজিএমইএ-বিকেএমইএর সঙ্গে বৈঠক
মোংলা প্রতিনিধি: মনির হোসেন
মোংলা বন্দরের মাধ্যমে তৈরি পোশাকের আমদানি-রপ্তানি বাড়াতে দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা। তিনি বলেছেন, দেশের গার্মেন্ট শিল্পের উদ্যোক্তারা স্বল্প খরচে মোংলা বন্দর ব্যবহার করে তাদের উৎপাদিত পোশাক রপ্তানি করতে পারেন। একই সঙ্গে পোশাক তৈরির কাঁচামাল ও প্রয়োজনীয় মালামাল মোংলা বন্দরের মাধ্যমে আমদানির ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের শীর্ষ দুই সংগঠন বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) ও বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) নেতাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে এসব কথা বলেন বন্দর চেয়ারম্যান।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর কার্যালয়ে পৃথকভাবে এসব বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এবং বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম উপস্থিত ছিলেন। এ সময় দুই সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে মোংলা বন্দরের মাধ্যমে তৈরি পোশাক শিল্পের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও বাড়ানোর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে পদ্মা সেতু চালুর পর দেশের মধ্যাঞ্চল ও ঢাকার কাছাকাছি এলাকার পোশাক কারখানাগুলোর জন্য মোংলা বন্দরের গুরুত্ব বেড়েছে বলে ব্যবসায়ী নেতারা উল্লেখ করেন।
বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর নেতারা বলেন, পদ্মা সেতু চালুর পর ঢাকার কাছাকাছি অবস্থিত তৈরি পোশাক কারখানাগুলোর জন্য মোংলা বন্দর একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর হিসেবে সম্ভাবনা তৈরি করেছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে পারলে দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের উৎপাদিত পণ্যের বড় একটি অংশ মোংলা বন্দর দিয়ে রপ্তানি করা সম্ভব হবে।
ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, মোংলা বন্দরের সক্ষমতা ও ভৌগোলিক সুবিধাকে কাজে লাগানো গেলে তৈরি পোশাক শিল্পের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে পদ্মা সেতুর মাধ্যমে রাজধানী ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হওয়ায় মোংলা বন্দরের ব্যবহার আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
বৈঠকে মোংলা বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা বলেন, বন্দরের বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগিয়ে গার্মেন্টস পণ্য সহজে রপ্তানির জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করবে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
তিনি তৈরি পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তাদের মোংলা বন্দর ব্যবহারে উৎসাহিত করেন। পাশাপাশি পোশাক তৈরির প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও অন্যান্য মালামাল আমদানির ক্ষেত্রেও ব্যবসায়ীদের সুবিধা দেওয়ার কথা জানান তিনি।
বন্দর চেয়ারম্যানের বক্তব্যে মোংলা বন্দরের মাধ্যমে তৈরি পোশাক শিল্পের আমদানি-রপ্তানি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং বন্দরের বিদ্যমান সুবিধাগুলো আরও কার্যকরভাবে ব্যবহারের মাধ্যমে এ খাতে বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে বলেও বৈঠকে আলোচনা হয়।
বৈঠকে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর শফিকুল ইসলাম সরকার, পরিচালক (ট্রাফিক) কামাল হোসেন, ডেপুটি ট্রাফিক ম্যানেজার মো. সোহাগসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বন্দর কর্তৃপক্ষ ও তৈরি পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তাদের মধ্যে অনুষ্ঠিত এসব বৈঠককে মোংলা বন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম সম্প্রসারণের একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের চাহিদা অনুযায়ী বন্দরসেবা আরও সহজ ও কার্যকর করা গেলে তৈরি পোশাক খাতের আমদানি-রপ্তানিতে মোংলা বন্দরের ব্যবহার বাড়তে পারে বলে বৈঠকে সংশ্লিষ্টরা মত দেন।
পদ্মা সেতু চালুর পর দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগব্যবস্থা সহজ হয়েছে। এর ফলে মোংলা বন্দরের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলের যোগাযোগের ক্ষেত্রেও নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তৈরি পোশাক শিল্পের পণ্য পরিবহন ও রপ্তানি কার্যক্রমে মোংলা বন্দরের ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়টি বৈঠকে গুরুত্ব পায়।
বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের সহযোগিতার আশ্বাস এবং ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে মোংলা বন্দর ব্যবহারে আগ্রহ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বৈঠকগুলো শেষ হয়।