1. dailymorningvoice@gmail.com : dailymorningvoice : ismail hossain
  2. jahid@gmail.com : jahid hasan : jahid hasan
  3. hafejjubayera@gmail.com : Jubayer Ahmad : Jubayer Ahmad
জাপানের ২৪ বিলিয়ন ডলারের পোশাকের বাজারে বড় হতে চায় বাংলাদেশ
Thursday, 24 September 2026, 03:03 pm
Headline :
শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানি ৮ অক্টোবর মেধার মূল্যায়নে দলীয় প্রভাব নয়, সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের জাতিসংঘে আজ বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী বিশ্বজুড়ে টেকসই শান্তিতে নারী নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের জোর সাবেক ভিসি কলিমউল্লাহসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন ১৭ নভেম্বর ইরানকে নিশ্চিহ্ন করার হুমকি ট্রাম্পের কৌশলগত হতাশার বহিঃপ্রকাশ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে খরচ প্রায় ৬ হাজার কোটি, এ বছর নাও হতে পারে বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক আরও জোরদারে দুই নেতার প্রত্যয় চীনের সঙ্গে এআই প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের সামনে যত চ্যালেঞ্জ বাস্তবসম্মত ও কর্মমুখী শিক্ষাদানে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে: রাষ্ট্রপতি

জাপানের ২৪ বিলিয়ন ডলারের পোশাকের বাজারে বড় হতে চায় বাংলাদেশ

  • Update Time : Thursday, 24 September, 2026, 02:37 pm
  • 5 Time View




জাপানের ২৪ বিলিয়ন ডলারের পোশাকের বাজারে বড় হতে চায় বাংলাদেশ

 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের প্রচলিত বাজারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে অপ্রচলিত দেশগুলোতে তৈরি পোশাক রফতানি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ। এরই মধ্যে এসব বাজারে রফতানিতে ইতিবাচক গতি দেখা দিয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের আগস্টে অপ্রচলিত বাজারগুলোতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানি হয়েছে রেকর্ড ৬৪২ দশমিক ৯৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এসব বাজারের মধ্যে সবচেয়ে বড় গন্তব্য হিসেবে রয়েছে জাপান।

 

জাপানের বার্ষিক টেক্সটাইল ও পোশাক আমদানির বাজার প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলারের। বিপরীতে দেশটিতে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি প্রায় ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ বিশাল বাজার হলেও সেখানে বাংলাদেশের অংশ এখনো তুলনামূলকভাবে সীমিত। এই অংশ বাড়াতে জাপানি ক্রেতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, বাজার বিশ্লেষণ, ক্রয়াদেশ সংগ্রহ এবং ব্যবসায়িক বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ‘জাপান ডেস্ক’ চালু করেছে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ।

 

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে জাপান ডেস্কের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি। অনুষ্ঠানে বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান ছাড়াও জাপানি দূতাবাস, জেট্রো, বিভিন্ন জাপানি প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

 

অপ্রচলিত বাজারে রফতানির গতি

 

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে অপ্রচলিত বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়েনি। তবে চলতি অর্থবছরের শুরুতে পরিস্থিতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

 

আগস্টে অপ্রচলিত বাজারে ৬৪২ দশমিক ৯৩ মিলিয়ন ডলারের পোশাক রফতানি হয়েছে, যা এক মাসের হিসাবে সর্বোচ্চ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এসব বাজারে পোশাক রফতানির মাসিক গড় ছিল ৫৭৪ দশমিক ৩৮ মিলিয়ন ডলার। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে সেই গড় বেড়ে হয়েছে ৬১১ দশমিক ৬০ মিলিয়ন ডলার।

 

দেশের মোট তৈরি পোশাক রফতানিতেও অপ্রচলিত বাজারের অংশ কিছুটা বেড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট পোশাক রফতানির ১৫ দশমিক ৯৩ শতাংশ এসেছিল এসব বাজার থেকে। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে এই হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ দশমিক ৩২ শতাংশে।

 

বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক ও বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, অপ্রচলিত বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানি বাড়ানোর বড় সুযোগ রয়েছে। এতদিন এসব বাজারে প্রত্যাশিত গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এখন দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের মাধ্যমে এসব বাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগানো প্রয়োজন।

 

জাপান শীর্ষ গন্তব্য

 

ইপিবির হিসাব অনুযায়ী, আগস্টে অপ্রচলিত বাজারগুলোর মধ্যে জাপানেই সবচেয়ে বেশি পোশাক রফতানি করেছে বাংলাদেশ। দেশটিতে রফতানির পরিমাণ ছিল ১১৮ দশমিক ৬৭ মিলিয়ন ডলার।

 

এর পরের অবস্থানে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া ৭৫ দশমিক ১৪ মিলিয়ন, ভারত ৭২ দশমিক ৭৮ মিলিয়ন, তুরস্ক ৫৯ দশমিক ৫৭ মিলিয়ন এবং কোরিয়া প্রজাতন্ত্র ৪৫ দশমিক ১৫ মিলিয়ন ডলার। একই সময়ে মেক্সিকোতে ৩২ দশমিক ৯৭ মিলিয়ন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২৮ দশমিক ৬২ মিলিয়ন, ব্রাজিলে ২৪ দশমিক ২৪ মিলিয়ন, চীনে ২০ দশমিক ৭০ মিলিয়ন এবং সৌদি আরবে ১৯ দশমিক ২৫ মিলিয়ন ডলারের পোশাক রফতানি হয়েছে।

 

আগস্টে বাংলাদেশ থেকে মোট ৩ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক রফতানি হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬৪৩ মিলিয়ন ডলার গেছে অপ্রচলিত বাজারে।

 

জাপানের বাজারে নতুন সম্ভাবনা

 

২০২৫-২৬ অর্থবছরে জাপানে বাংলাদেশ থেকে ১১৩ কোটি ৪৭ লাখ ডলারের পোশাক রফতানি হয়েছে। আগের অর্থবছরের তুলনায় এ রফতানি ৪ দশমিক ২৮ শতাংশ কমেছে।

 

তবে চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে কিছুটা ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। এ সময়ে জাপানে পোশাক রফতানি হয়েছে ২২ কোটি ৭২ লাখ ডলার। আগের বছরের একই সময়ে রফতানি হয়েছিল ২২ কোটি ৪২ লাখ ডলার। ফলে রফতানি বেড়েছে ১ দশমিক ৩৩ শতাংশ।

 

জাপানের বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে ১৭২টি কারখানাকে জাপানি ব্র্যান্ড ও ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী প্রস্তুত করার উদ্যোগ নিয়েছে বিজিএমইএ। ইউনিক্লো, মুজি, জিইউ ও শিমামুরার মতো ব্র্যান্ডের চাহিদা অনুযায়ী পণ্যের মান, সরবরাহের সময় এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

 

বিজিএমইএর জাপান ডেস্ক এ ক্ষেত্রে ওয়ান-স্টপ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। জাপানি ক্রেতা খোঁজা, বাজার গবেষণা, ক্রয়াদেশ সংগ্রহ এবং দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে যোগাযোগ তৈরিতে সহায়তা করবে এটি। পাশাপাশি জেট্রো, জাইকা ও জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও সমন্বয় করা হবে।

 

ইপিএতে শুল্ক সুবিধার সম্ভাবনা

 

জাপানের বাজারে বাংলাদেশের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি বা ইপিএকে ঘিরে। চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি টোকিওতে বাংলাদেশ ও জাপান চুক্তিটিতে সই করে। এটি বাংলাদেশের প্রথম ইপিএ।

 

বিজিএমইএর মতে, চুক্তির ফলে তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন বাংলাদেশি পণ্য জাপানের বাজারে শুল্ক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে শুধু শুল্ক সুবিধা দিয়ে বাজার সম্প্রসারণ সম্ভব নয়। জাপানি ক্রেতাদের কাছে পণ্যের মান, স্থায়িত্ব, সময়মতো সরবরাহ এবং ব্যবসায়িক নির্ভরযোগ্যতাও গুরুত্বপূর্ণ।

 

লিড টাইম বড় চ্যালেঞ্জ

 

বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, চীন, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার তুলনায় বাংলাদেশের ভৌগোলিক দূরত্ব বেশি। ফলে জাপানি ক্রেতাদের কাছে পণ্য পৌঁছাতে বেশি সময় লাগে। এ কারণে লিড টাইম বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

 

তিনি পরিবহন ব্যয় কমানো ও দ্রুত পণ্য সরবরাহে জাপান সরকারের সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে কয়েকটি প্রচলিত বাজারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে বাজার ও পণ্যের বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্ব দেন।

 

জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি বলেন, বিজিএমইএতে জাপান ডেস্ক চালুর মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক যোগাযোগ আরও গতিশীল হবে। তিনি টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য রফতানি বহুমুখীকরণের গুরুত্বও তুলে ধরেন।

 

সব মিলিয়ে জাপানের ২৪ বিলিয়ন ডলারের পোশাক বাজার বাংলাদেশের জন্য বড় সম্ভাবনার ক্ষেত্র হয়ে উঠছে। বাজারটির তুলনায় বাংলাদেশের বর্তমান রফতানি অংশ সীমিত হলেও জাপান ডেস্ক, ১৭২টি কারখানাকে প্রস্তুত করা এবং ইপিএর সম্ভাব্য সুবিধা কাজে লাগিয়ে সেখানে উপস্থিতি বাড়ানোর চেষ্টা করছে দেশের পোশাকশিল্প। তবে এই সুযোগ কাজে লাগাতে মানসম্মত পণ্য, দ্রুত সরবরাহ, পণ্যের বৈচিত্র্য এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক আস্থা অর্জন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

Facebook Comments Box
Please follow and like us:
Pin Share
More News Of This Category