পল্টন-গুলিস্তান-নর্থ সাউথ রোডের মূল সড়ক হকারমুক্ত ঘোষণা
রাজধানীর পল্টন মোড় থেকে গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট হয়ে নর্থ সাউথ রোড পর্যন্ত মূল সড়ক হকারমুক্ত ঘোষণা করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এখন থেকে এসব সড়কের মূল অংশে কোনো হকার বসতে পারবেন না। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ সড়কে বসলে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে নির্ধারিত সড়ক ও ফুটপাত পরিদর্শনকালে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
পরিদর্শনের সময় তিনি বলেন, পল্টন মোড় থেকে গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট হয়ে নর্থ সাউথ রোড পর্যন্ত মূল সড়কে কোনোভাবেই হকার বসতে দেওয়া হবে না। সড়ক ও ফুটপাতের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ নির্ধারিত এলাকায় হকারি করলে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডিএসসিসি প্রশাসক জানান, হকার সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এ বিষয়ে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। আলোচনায় হকারদের প্রতিনিধিরাও মূল সড়ক ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে স্বেচ্ছায় অঙ্গীকার করেছেন। নগরবাসীর স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, রাজধানীর ব্যস্ততম এসব সড়ক ও ফুটপাতে দীর্ঘদিন ধরে হকারদের উপস্থিতির কারণে পথচারী ও যানবাহন চলাচলে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা তৈরি হয়। ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় অনেক সময় পথচারীদের মূল সড়কে নেমে চলাচল করতে হয়। এতে একদিকে যেমন জনভোগান্তি বাড়ে, অন্যদিকে যান চলাচলেও চাপ তৈরি হয়।
তবে নির্ধারিত একটি এলাকায় নিয়ম মেনে সীমিতসংখ্যক নিবন্ধিত হকারকে বসার সুযোগ রাখা হয়েছে। ডিএসসিসি জানিয়েছে, রমনা ভবনসংলগ্ন পূর্ব পাশের ফুটপাতে পথচারীদের চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা রেখে নির্দিষ্ট স্থানে নিবন্ধিত ও নির্ধারিত সংখ্যক হকার বসতে পারবেন।
এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত স্থান, সময়, সংখ্যা ও নিবন্ধনের শর্ত মানতে হবে। এসব শর্তের বাইরে গিয়ে অন্য কোনো স্থানে হকার বসে জনসাধারণের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অর্থাৎ হকারদের জন্য যে সীমিত পরিসরে সুযোগ রাখা হয়েছে, সেটিও নির্দিষ্ট নিয়ম ও নিবন্ধনের আওতায় থাকবে।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, সড়ক ও ফুটপাত ব্যবহারে নিয়মের ব্যত্যয় ঘটলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। নগর ব্যবস্থাপনার স্বার্থে নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
এদিকে হকারদের নিবন্ধন ফি কমানোর দাবির বিষয়েও কথা বলেন আবদুস সালাম। তিনি জানান, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে যে নির্দেশনা দেওয়া হবে, তার ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার সকালে ডিএসসিসির প্রশাসক পল্টন মোড় থেকে গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত সড়ক ও ফুটপাত পরিদর্শন করেন। এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তিনি দখলমুক্তকরণ কার্যক্রম সরাসরি তদারকি করেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সড়ক ও ফুটপাতের বর্তমান পরিস্থিতি এবং হকারদের অবস্থান সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করেন।
পরিদর্শনকালে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদারসহ সংস্থাটির সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। হকার সংগঠনের প্রতিনিধিরাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
ডিএসসিসির এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য হিসেবে সড়ক ও ফুটপাতের স্বাভাবিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং পথচারীদের চলাচলে স্বস্তি ফিরিয়ে আনার বিষয়টি সামনে এসেছে। বিশেষ করে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম পল্টন, গুলিস্তান ও নর্থ সাউথ রোড এলাকায় যানবাহন ও পথচারীর চাপ বেশি থাকায় সড়ক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
ডিএসসিসি জানিয়েছে, নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী নিবন্ধিত হকারদের জন্য যে স্থান রাখা হয়েছে, সেখানে শর্ত মেনে ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে। একই সঙ্গে মূল সড়ক দখল করে হকার বসানো যাবে না। নিয়ম ভঙ্গের ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নগরবাসীর চলাচল সহজ করা এবং সড়ক-ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।