বিএনপির সঙ্গে বেঈমানি করা নেতাদের দলে ঠাঁই হবে না: এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক
বিএনপির সঙ্গে গত নির্বাচনে যারা ‘বেঈমানি’ করেছেন, ভবিষ্যতে তাদের দলে জায়গা দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, দলের দুঃসময়ে যারা পাশে ছিলেন এবং সংগঠনের জন্য কাজ করেছেন, তাদের যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হবে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, বিএনপি কোনো ধরনের রাজনৈতিক হুমকিকে পরোয়া করে না। গত নির্বাচনে দলের সঙ্গে যারা বেঈমানি করেছেন, তাদের আর দলে ঠাঁই হবে না। একই সঙ্গে দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যারা প্রতিকূল সময়ে দলের জন্য কাজ করেছেন, তারা বৈধভাবে প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা পাবেন।
বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর অতীত রাজনৈতিক সম্পর্কের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০০১ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া জামায়াতের দুই নেতাকে মন্ত্রিসভায় স্থান দিয়েছিলেন। এর মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে থাকা ‘রাজাকার’ পরিচয় মুছে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
মীর শাহে আলম আরও বলেন, বর্তমানে সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত এবং বিপুল জনসমর্থন রয়েছে বলে তারা মনে করেন। তার অভিযোগ, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই জামায়াত সরকার পতনের হুমকি দিয়ে লংমার্চের কর্মসূচি নিয়েছে।
তবে এসব বক্তব্য প্রতিমন্ত্রীর রাজনৈতিক মন্তব্য হিসেবে এসেছে। অনুষ্ঠানে তিনি বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়েও নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও কথা বলেন এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, আগামী বছরের জানুয়ারিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের নেতাকর্মীদের এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে তাদের পাশে থেকে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেন।
তিনি বলেন, শুধু সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে নেতাকর্মীদের সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে হবে। জনগণের প্রয়োজন ও সমস্যাগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে মাঠপর্যায়ে কাজ করার মাধ্যমে রাজনৈতিক সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার কথাও বলেন তিনি।
চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও সাতকানিয়া উপজেলার সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টিও অনুষ্ঠানে উঠে আসে। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, গত জুলাইয়ের ভয়াবহ বন্যায় দুই উপজেলা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশেষ করে বাঁশখালী উপজেলায় প্রায় ১২ হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত বা বিধ্বস্ত হয়েছে।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এসব পরিবারের পুনর্বাসন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার জেলা পরিষদের উদ্যোগে সহায়তা দেওয়া হয়। এদিন বাঁশখালীর ৫১০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে নতুন ঘর নির্মাণের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি পরিবারকে ৩০ হাজার টাকা করে চেক প্রদান করা হয়।
চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ঘর পুনর্নির্মাণে এই অর্থ সহায়তা হিসেবে ব্যবহৃত হবে বলে জানানো হয়।
বক্তব্যের শেষদিকে দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং জনগণের পাশে থাকার আহ্বান জানান মীর শাহে আলম। একই সঙ্গে আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সংগঠনের কার্যক্রম জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।