আট বছরেও চালু হয়নি সাতক্ষীরা মেডিকেলের এস্কেলেটর, বন্ধ ৩ লিফট
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রায় আট বছর আগে স্থাপন করা হলেও এখনো চালু হয়নি একটি এস্কেলেটর। প্রায় ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে স্থাপন করা এই যন্ত্রটি প্রথম দিন থেকেই অচল অবস্থায় পড়ে আছে। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় মূল্যবান যন্ত্রটির বিভিন্ন অংশ নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালের ১০টি প্যাসেঞ্জার লিফটের মধ্যে তিনটি বিভিন্ন ত্রুটির কারণে বন্ধ রয়েছে।
এতে ১০ তলা হাসপাতাল ভবনে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী, তাদের স্বজন, চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য কর্মীদের চলাচলে ভোগান্তি বাড়ছে। বিশেষ করে গুরুতর অসুস্থ রোগী, বয়স্ক ব্যক্তি ও প্রতিবন্ধীদের এক তলা থেকে অন্য তলায় যেতে বেশি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এস্কেলেটরটি চালু করা এবং বিকল লিফটগুলো মেরামতের জন্য স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে একাধিকবার লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। সর্বশেষ গত ৫ জুলাই এ বিষয়ে চিঠি দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. কুদরত-ই খোদা জানান, ২০১৮ সালের দিকে হাসপাতালের চিকিৎসক, রোগী ও দর্শনার্থীদের চলাচলের সুবিধার জন্য একটি এস্কেলেটর ও ১০টি প্যাসেঞ্জার লিফট স্থাপন করা হয়। তবে স্থাপনের পর থেকে এস্কেলেটরটি একদিনের জন্যও ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে ১০টি লিফটের মধ্যে তিনটিও অচল হয়ে আছে।
তিনি বলেন, এস্কেলেটর চালু, বিকল তিনটি লিফট মেরামত এবং হাসপাতালের আরও ১১টি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের বিষয়ে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে সর্বশেষ ৫ জুলাই লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। এর আগেও একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছিল। কিন্তু এখনো সমস্যার সমাধান হয়নি।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ৫০০ শয্যার সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রতিদিন বহির্বিভাগ ও ভর্তি রোগীদের সঙ্গে প্রায় দেড় থেকে দুই হাজার মানুষের যাতায়াত হয়। ১০ তলা ভবন হওয়ায় রোগী ও স্বজনদের একটি বড় অংশকে এক তলা থেকে অন্য তলায় যেতে লিফটের ওপর নির্ভর করতে হয়।
তিনটি লিফট বন্ধ থাকায় বর্তমানে সচল লিফটগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে। ফলে রোগী ও স্বজনদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে দ্রুত এক তলা থেকে অন্য তলায় নেওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।
বিশেষ করে স্ট্রেচারে থাকা রোগী, গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তি ও বয়স্ক রোগীদের জন্য এই ভোগান্তি আরও বেশি। শুধু রোগী ও স্বজন নয়, প্রতিদিনের দায়িত্ব পালনের সময় চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও একই সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রোপার্টিস ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের মাধ্যমে প্রায় সাড়ে ৫৯ লাখ টাকা ব্যয়ে এস্কেলেটরটি স্থাপন করা হয়। তবে স্থাপনের পর অজ্ঞাত ত্রুটির কারণে সেটি চালু করা সম্ভব হয়নি। এরপর থেকে এস্কেলেটরটি ব্যবহার না করেই পড়ে আছে।
দীর্ঘ সময় কোনো যন্ত্র ব্যবহার না হওয়ায় এর বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ফলে এখন এটি চালু করতে গেলে বাড়তি ব্যয় হতে পারে বলেও সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা।
এদিকে হাসপাতালটিতে আগে থেকেই ১০টি প্যাসেঞ্জার লিফট থাকার পরও প্রায় ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে এস্কেলেটর স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সরকারি অর্থ ব্যয়ে স্থাপিত একটি গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র আট বছর ধরে অব্যবহৃত থাকায় পরিকল্পনা ও প্রকল্প বাস্তবায়নের কার্যকারিতা নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে।
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা খুলনা স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী এ. কে. হাসানুজ্জামান বলেন, হাসপাতালের এস্কেলেটরটির বিষয়ে খোঁজ নিয়ে তিনি জেনেছেন, এটি তুলনামূলকভাবে অপ্রয়োজনীয় ছিল।
তিনি বলেন, যেখানে হাসপাতালটিতে ১০টি লিফট রয়েছে, সেখানে আলাদাভাবে এস্কেলেটর স্থাপনের প্রয়োজন ছিল না। তবে এস্কেলেটরটি কেন চালু হয়নি, তা টেকনিশিয়ানের মাধ্যমে পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, হাসপাতালের বিকল তিনটি প্যাসেঞ্জার লিফটসহ অন্যান্য রক্ষণাবেক্ষণ কাজও দ্রুত সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রায় আট বছর ধরে সরকারি অর্থে কেনা একটি ব্যয়বহুল এস্কেলেটর অব্যবহৃত পড়ে থাকা এবং একই সময়ে একাধিক লিফট বিকল থাকার ঘটনায় হাসপাতালের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থাপনা ও সরকারি সম্পদের যথাযথ ব্যবহারের বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। দ্রুত এস্কেলেটরটি পরীক্ষা করে চালু করা এবং বিকল লিফটগুলো মেরামত করা হলে রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তি কমবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।