ভরণপোষণ না দেওয়ায় ছেলের বিরুদ্ধে মায়ের মামলা
যশোরে ভরণপোষণ না দেওয়া, মারধর ও হত্যার হুমকির অভিযোগে ছেলের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন এক মা। মামলায় ছেলের বিরুদ্ধে বাবা-মায়ের দেখভাল না করা, মাদক সেবনের অর্থ জোগাড় করতে বাড়ির জিনিসপত্র চুরি করে বিক্রি করা, মারধর ও আসবাবপত্র ভাঙচুরের অভিযোগ আনা হয়েছে।
বুধবার যশোর সদর উপজেলার নরেন্দ্রপুর ইউনিয়নের চাউলিয়া গ্রামের করিমন নেছা তাঁর ছেলে শুভ শেখের (২৬) বিরুদ্ধে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেন।
মামলার অভিযোগ আমলে নিয়ে আসামির বিরুদ্ধে সমন জারির আদেশ দিয়েছেন আদালতের বিচারক সঞ্জয় পাল।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, শুভ শেখ তাঁর বাবা-মাকে নিয়মিত ভরণপোষণ দেন না। সংসারের প্রয়োজনীয় খরচ বহন না করে তিনি বিভিন্ন সময় বাবা-মায়ের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। অভিযোগ রয়েছে, মাদক সেবনের টাকা সংগ্রহ করতে তিনি বাড়ির বিভিন্ন জিনিসপত্র চুরি করে বিক্রি করেন।
মামলার বাদী করিমন নেছার অভিযোগ, ছেলে টাকা না পেলে বাবা-মায়ের সঙ্গে মারধর ও দুর্ব্যবহার করেন। একই সঙ্গে ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে পরিবারের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন তিনি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ২২ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে শুভ শেখের বাবা-মা তাঁকে মাদক থেকে দূরে থাকার এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার পরামর্শ দেন। এ সময় তাঁদের কথায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন তিনি। একপর্যায়ে বাবা-মাকে মারধর করেন শুভ।
মারধরের ঘটনায় তাঁর বাবা-মায়ের শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন। পরে প্রতিবেশীরা আহত বাবা-মাকে উদ্ধার করেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ছেলে দীর্ঘদিন ধরে বাবা-মায়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে আসছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁকে সংশোধনের চেষ্টা করা হলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ছেলের আচরণ ও নির্যাতনের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া অথবা স্থানীয়ভাবে সালিশের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানালে শুভ শেখ তাঁর বাবা-মাকে হত্যার হুমকি দেন। এতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে শুরু করেন তাঁরা।
পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে করিমন নেছা আদালতের দ্বারস্থ হন। তিনি ছেলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানান।
আদালত বাদীর অভিযোগ শুনে তা আমলে নেন এবং আসামি শুভ শেখের বিরুদ্ধে সমন জারির আদেশ দেন। মামলার পরবর্তী কার্যক্রম আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী চলবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক বিরোধ ও সন্তানের হাতে বাবা-মায়ের নির্যাতনের অভিযোগ স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন সময় সামনে এলেও সব ঘটনা আদালত পর্যন্ত গড়ায় না। এ ঘটনায় ভরণপোষণের পাশাপাশি বাবা-মাকে মারধর ও হত্যার হুমকির অভিযোগও করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে মাদক সেবনের জন্য অর্থ সংগ্রহ, বাড়ির মালামাল বিক্রি এবং বাবা-মায়ের ওপর শারীরিক নির্যাতনের যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, সেগুলো এখন আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার বিষয়। অভিযোগের সত্যতা আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমে নির্ধারিত হবে।
এদিকে, বাবা-মায়ের ভরণপোষণ, নিরাপত্তা ও পারিবারিক দায়িত্ব পালনের বিষয়টি নিয়ে সন্তানদের দায়িত্বশীল হওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। পরিবারের মধ্যে বিরোধ তৈরি হলে তা সমাধানের জন্য স্থানীয়ভাবে আলোচনা, পারিবারিক উদ্যোগ কিংবা আইনগত সহায়তা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
তবে করিমন নেছার করা মামলায় তাঁর ছেলে শুভ শেখের বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো আনা হয়েছে, সেগুলো এখনো অভিযোগের পর্যায়ে রয়েছে। আদালতের পরবর্তী শুনানি ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টির অগ্রগতি জানা যাবে।