বাংলাদেশ-ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা নিয়ে সমঝোতা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাংলাদেশ ও ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো নিয়মিত দ্বিপাক্ষিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে। দুই দেশের সম্পর্ক পর্যালোচনা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে জ্বালানি খাতকে সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করছে বাংলাদেশ।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়। বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর এবং ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোর পক্ষে দেশটির পররাষ্ট্র ও ক্যারিকম বিষয়ক মন্ত্রী এস এম সোবার্স এতে স্বাক্ষর করেন।
সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর বলেন, নতুন এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দুই দেশ নিয়মিতভাবে নিজেদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পর্যালোচনা করার সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার নতুন সুযোগ চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।
তিনি জানান, বাণিজ্য ও অর্থনীতি ছাড়াও বিজ্ঞান, কারিগরি বিষয় এবং সংস্কৃতির ক্ষেত্রে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে মতবিনিময়ের পথও আরও সহজ হবে।
জ্বালানি সহযোগিতাকে স্বল্পমেয়াদে দুই দেশের সম্ভাবনাময় একটি ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। এ খাতে দ্রুত অগ্রগতি আনতে বাংলাদেশ ও ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একটি কারিগরি বৈঠক আয়োজনের জন্য দেশটির সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সহযোগিতা চান তিনি।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত কারিগরি বৈঠকে ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণের কথা জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ন্যাশনাল গ্যাস কোম্পানি, আটলান্টিক এলএনজি, ফিনিক্স পার্ক গ্যাস প্রসেসরস এবং একটি অ্যামোনিয়া বা সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান।
দুই দেশের আলোচনায় রোহিঙ্গা সংকটও গুরুত্ব পেয়েছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টি তুলে ধরতে ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোর সহযোগিতা কামনা করেন।
বিশেষ করে ২০২৭-২০২৮ মেয়াদে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোর দায়িত্ব পালনের সময় রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বাংলাদেশের পক্ষে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।
বৈঠকে রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তার তহবিল কমে যাওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক সহায়তার অর্থ কমে এলেও বাংলাদেশ মিয়ানমার থেকে আসা ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
এ ছাড়া ক্রিকেটকে দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ ও সম্পর্ক বাড়ানোর একটি মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করেন হুমায়ুন কবীর। তিনি যুব ও নারী ক্রিকেট, কোচিং, ক্রীড়া বিজ্ঞান এবং ক্রীড়া প্রশাসনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান বিনিময়ের প্রস্তাব দেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, খেলাধুলার মাধ্যমে দুই দেশের তরুণদের মধ্যে যোগাযোগ আরও বাড়ানো সম্ভব। বিশেষ করে ক্রিকেটের ক্ষেত্রে দুই দেশের অভিজ্ঞতা বিনিময় ভবিষ্যতে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে।
সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোর মধ্যে নিয়মিত দ্বিপাক্ষিক আলোচনার একটি কাঠামো তৈরি হলো। এর মাধ্যমে দুই দেশ নিজেদের সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়মিতভাবে পর্যালোচনা করার পাশাপাশি নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করতে পারবে।
বাণিজ্য, অর্থনীতি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, সংস্কৃতি এবং জ্বালানি খাতের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময়ের সুযোগও বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
দুই পক্ষই মনে করছে, নতুন এই সমঝোতা দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও কাঠামোবদ্ধ করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে জ্বালানি খাতে দ্রুত কারিগরি যোগাযোগ এবং রোহিঙ্গা সংকটে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ে এই আলোচনার প্রক্রিয়া বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি সহযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।