1. dailymorningvoice@gmail.com : dailymorningvoice : ismail hossain
  2. jahid@gmail.com : jahid hasan : jahid hasan
  3. hafejjubayera@gmail.com : Jubayer Ahmad : Jubayer Ahmad
বঙ্গোপসাগরে ইঞ্জিন বিকল ট্রলারসহ ৮ জেলে উদ্ধার
Friday, 25 September 2026, 05:29 pm
Headline :
হুতিদের ঘিরে প্রথম পরীক্ষায় মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির সামনে জটিলতা বাংলাদেশ-ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা নিয়ে সমঝোতা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশন ও ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ গঙ্গার পানিবণ্টনে নবায়ন নয়, নতুন চুক্তি চায় বাংলাদেশ শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানি ৮ অক্টোবর মেধার মূল্যায়নে দলীয় প্রভাব নয়, সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের জাতিসংঘে আজ বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী বিশ্বজুড়ে টেকসই শান্তিতে নারী নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের জোর সাবেক ভিসি কলিমউল্লাহসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন ১৭ নভেম্বর ইরানকে নিশ্চিহ্ন করার হুমকি ট্রাম্পের কৌশলগত হতাশার বহিঃপ্রকাশ

বঙ্গোপসাগরে ইঞ্জিন বিকল ট্রলারসহ ৮ জেলে উদ্ধার

  • Update Time : Friday, 25 September, 2026, 05:12 pm
  • 9 Time View




বঙ্গোপসাগরে ইঞ্জিন বিকল ট্রলারসহ ৮ জেলে উদ্ধার

 

মোংলা প্রতিনিধি: মনির হোসেন

 

বঙ্গোপসাগরে ইঞ্জিন বিকল হয়ে গভীর সমুদ্রে ভাসতে থাকা একটি ফিশিং ট্রলারসহ আট জেলেকে জীবিত উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের সদস্যরা। দীর্ঘ সময় সমুদ্রে আটকে থাকার পর কোস্ট গার্ডের উদ্ধারকারী দলের অভিযানে তাদের নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।

 

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

 

কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ সেপ্টেম্বর শনিবার দুপুর ১১টার দিকে আটজন জেলেকে নিয়ে একটি ফিশিং বোট বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে মাছ ধরছিল। একপর্যায়ে সুন্দরবনের কোকিলমনি থেকে প্রায় ১১ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণে অবস্থানকালে ট্রলারটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। ফলে সেটি নিয়ন্ত্রণহীনভাবে সমুদ্রে ভাসতে থাকে।

 

ইঞ্জিন বিকল হওয়ার পর ট্রলারটির জেলেরা তাৎক্ষণিকভাবে স্বাভাবিকভাবে তীরে ফিরে আসতে পারেননি। সমুদ্রে অবস্থান করার কারণে তারা যোগাযোগের সুযোগও পাচ্ছিলেন না। পরে ট্রলারটি এমন একটি এলাকায় পৌঁছায়, যেখানে মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক পাওয়া সম্ভব হয়।

 

কোস্ট গার্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টার দিকে ট্রলারে থাকা এক জেলে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ট্রলারের মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ওই জেলে ট্রলারটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে গভীর সমুদ্রে আটকে থাকার বিষয়টি মালিককে জানান।

 

বিষয়টি জানার পর ট্রলার মালিক কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের কাছে সহায়তা চান। খবর পেয়ে কোস্ট গার্ড দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ নেয়।

 

প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড স্টেশন কোকিলমনি থেকে একটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়। পরে গভীর সমুদ্র এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইঞ্জিন বিকল হয়ে ভাসতে থাকা ফিশিং ট্রলারটির সন্ধান পাওয়া যায়। সেখানে থাকা আট জেলেকেই জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করে কোস্ট গার্ডের সদস্যরা।

 

উদ্ধারের পর জেলেদের শারীরিক অবস্থা প্রাথমিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। তাদের প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থানের কারণে প্রয়োজনীয় খাবার ও অন্যান্য সহায়তাও দেওয়া হয়েছে।

 

কোস্ট গার্ড সূত্র জানায়, উদ্ধার হওয়া জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিকল ট্রলারটি মালিকপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। উদ্ধার কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর ট্রলারটি কীভাবে নিরাপদে তীরে নেওয়া হবে, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

 

কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, গভীর সমুদ্রে ইঞ্জিন বিকল হয়ে আটজন জেলেসহ একটি ফিশিং বোট ভাসতে থাকার খবর পাওয়ার পর দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরে কোস্ট গার্ড স্টেশন কোকিলমনি থেকে পাঠানো উদ্ধারকারী দল তাদের জীবিত উদ্ধার করে।

 

তিনি আরও জানান, উদ্ধার হওয়া জেলেদের প্রাথমিক চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় খাবার দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তাদের ট্রলারসহ মালিকপক্ষের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

 

গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া ফিশিং ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হলে জেলেদের দীর্ঘ সময় সমুদ্রে আটকে থাকার ঝুঁকি তৈরি হয়। বিশেষ করে যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন থাকলে তাদের অবস্থান শনাক্ত করা এবং দ্রুত সহায়তা পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। এ ঘটনায় মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতায় আসার পর একজন জেলে মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হওয়ায় উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়।

 

কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, সমুদ্রসীমায় জেলে ও নৌযানগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা নিয়মিতভাবে নজরদারি ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। জরুরি পরিস্থিতিতে কোনো জেলে বা নৌযান বিপদে পড়লে কোস্ট গার্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

 

এ ধরনের উদ্ধার অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন কোস্ট গার্ডের কর্মকর্তারা। সমুদ্রে মাছ ধরার সময় নৌযানের যান্ত্রিক ত্রুটি, বৈরী আবহাওয়া কিংবা অন্য কোনো কারণে বিপদে পড়া জেলেদের দ্রুত সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে সংস্থাটি।

 

এদিকে আট জেলে জীবিত উদ্ধারের ঘটনায় তাদের স্বজনদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। গভীর সমুদ্রে কয়েক দিন আটকে থাকার পর কোস্ট গার্ডের অভিযানে সবাই নিরাপদে উদ্ধার হওয়ায় স্বজনদের উৎকণ্ঠার অবসান হয়েছে।

Facebook Comments Box
Please follow and like us:
Pin Share
More News Of This Category