স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেবে গণঅধিকার পরিষদ
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে গণঅধিকার পরিষদ। একই সঙ্গে নির্বাচন আয়োজন, প্রার্থীদের যোগ্যতা এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণসহ তিনটি বিষয়ে দাবি জানিয়েছে দলটি।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে দলের অবস্থান তুলে ধরেন গণঅধিকার পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন। লিখিত বক্তব্যে তিনি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলটির এককভাবে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্তের কথা জানান।
হাসান আল মামুন বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে একটি নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। এরপর জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সরকারের পক্ষ থেকে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন পর্যায়ক্রমে আয়োজনের কথা জানানো হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর প্রথম ধাপ হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনী বিধিমালা ও দলীয় প্রতীক প্রসঙ্গ
গণঅধিকার পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বলেন, গত ৩ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকার আইন ২০০৯-এর ক্ষমতাবলে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে। এরপর ১৭ সেপ্টেম্বর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বিধিমালা ২০১০ সংশোধন করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক বাতিলের সিদ্ধান্ত গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়।
দলটির মতে, দলীয় প্রতীক বাতিলের ফলে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সাধারণ জনগণ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে গণঅধিকার পরিষদ তিন দফা দাবি তুলে ধরে। প্রথম দাবিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল করার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে দলটি।
দলটির প্রস্তাব অনুযায়ী, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীদের জন্য স্নাতক বা অনার্স এবং সদস্য পদপ্রার্থীদের জন্য উচ্চমাধ্যমিক পাস বাধ্যতামূলক করা উচিত। গণঅধিকার পরিষদ মনে করে, জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অংশগ্রহণের দাবি
দ্বিতীয় দাবিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছে গণঅধিকার পরিষদ।
দলটির প্রশ্ন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করতে পারলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে তাদের ওপর কেন বিধিনিষেধ থাকবে। এ বিষয়ে বিদ্যমান বিধি পর্যালোচনা করে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে দলটি।
দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন চায় দলটি
তৃতীয় দাবিতে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে মাঠ প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে দ্রুত ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়েছে গণঅধিকার পরিষদ।
দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়, স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হলে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়বে এবং স্থানীয় পর্যায়ে জনপ্রতিনিধিত্বের কাঠামো আরও কার্যকর হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থীদের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়। দলটির নেতারা বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে জনগণের অধিকার আদায়ের আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন গণঅধিকার পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি ফারুক হাসান, মুখপাত্র আবু হানিফ, উচ্চতর পরিষদের সদস্য শহিদুল ইসলাম ফাহিম ও সাকিব হোসাইন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নীলা শেখ ও অরবিন্দু বেপারী, দফতর সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক ইলিয়াস মিয়া, সহ-স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় সদস্য নিজাম উদ্দিন এবং মহানগর উত্তরের সভাপতি আব্দুর রহিম।
গণঅধিকার পরিষদের এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে দলটির নির্বাচনী প্রস্তুতির বিষয়টি স্পষ্ট হলো। দলটি জানিয়েছে, ইউনিয়ন পরিষদসহ পর্যায়ক্রমে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে নিজেদের প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি থাকবে।