সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নওফেলের স্ত্রী ইমা ক্লেয়ারের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
দুর্নীতির মামলায় সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের স্ত্রী ইমা ক্লেয়ার বার্টনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মো. আলমগীর এ আদেশ দেন।
দুদকের প্রসিকিউটর তরিকুল ইসলাম আদালতের আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া ইমা ক্লেয়ার বার্টনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতে আবেদন করেন।
দুদকের আবেদনে বলা হয়েছে, ইমা ক্লেয়ার বার্টন নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও নির্দিষ্ট ছকে সম্পদের বিবরণী কমিশনে জমা দেননি। অসৎ উদ্দেশ্যে সম্পদ বিবরণী জমা না দেওয়ার মাধ্যমে তিনি অপরাধ করেছেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগও আনা হয়েছে। দুদকের আবেদনে দাবি করা হয়, ইমা ক্লেয়ার বার্টন ৮৪ লাখ ৩৫ হাজার ১২৮ টাকার জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জন করেছেন। একই সঙ্গে ওই সম্পদ নিজের দখলে রাখার অভিযোগও রয়েছে।
দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এসব অভিযোগের ভিত্তিতে গত বছরের ৪ জুন ইমা ক্লেয়ার বার্টনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে তার সম্পদ, আয় এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
আদালতে দেওয়া আবেদনে আরও বলা হয়, তদন্ত চলাকালে বিশ্বস্ত সূত্রের মাধ্যমে দুদক জানতে পারে, মামলাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি গোপনে দেশত্যাগের চেষ্টা করছেন। এ অবস্থায় তিনি দেশত্যাগ করে বিদেশে চলে গেলে মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।
দুদকের আবেদনে বলা হয়, মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ডপত্র ও প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহে বাধা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে তদন্ত কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি মামলার বিষয়ে গুরুতর ক্ষতির সম্ভাবনাও রয়েছে। এসব কারণ বিবেচনায় নিয়ে ইমা ক্লেয়ার বার্টনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন বলে আদালতের কাছে আবেদন করে দুদক।
শুনানি শেষে আদালত দুদকের আবেদন মঞ্জুর করেন এবং ইমা ক্লেয়ার বার্টনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন। এর ফলে আদালতের অনুমতি ছাড়া তিনি দেশত্যাগ করতে পারবেন না।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, দুর্নীতির মামলায় তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ, সম্পদের তথ্য যাচাই এবং অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের সময় কোনো আসামি বা মামলাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দেশত্যাগ করলে তদন্তে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, সে বিষয়টিও আদালতের কাছে তুলে ধরা হয়েছে।
আদালতের এই আদেশের মাধ্যমে ইমা ক্লেয়ার বার্টনের বিরুদ্ধে চলমান মামলার তদন্তকালীন সময়ে তার দেশত্যাগের ওপর আইনগত বাধা তৈরি হলো। তবে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে মানেই মামলার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন নয়। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে।
দুদকের আবেদনে যেসব অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে নির্ধারিত সময়ের পর সম্পদের বিবরণী জমা না দেওয়া এবং জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জনের বিষয়টি প্রধান। এ ছাড়া অভিযোগ করা হয়েছে, ওই সম্পদ নিজের দখলে রাখার ক্ষেত্রেও তিনি সংশ্লিষ্ট ছিলেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতের কাছে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আবেদন করার সময় তদন্তে সম্ভাব্য প্রতিবন্ধকতার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেন। বিশেষ করে বিদেশে চলে গেলে মামলার প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র ও অন্যান্য তথ্য সংগ্রহে সমস্যা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।
আদালতের আদেশের পর এখন মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান থাকবে। তদন্তে অভিযোগগুলোর বিষয়ে কী ধরনের তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায় এবং পরবর্তী সময়ে দুদক কী ধরনের আইনগত পদক্ষেপ নেয়, সেটিই হবে মামলার পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
উল্লেখ্য, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের স্ত্রী ইমা ক্লেয়ার বার্টনের বিরুদ্ধে করা দুর্নীতির মামলায় মঙ্গলবার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার এই আদেশ দেওয়া হলো। দুদকের আবেদনের ভিত্তিতে আদালত এই সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।