ইরানকে নিশ্চিহ্ন করার হুমকি ট্রাম্পের কৌশলগত হতাশার বহিঃপ্রকা
ইরানকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকিকে কৌশলগত হতাশার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বর্ণনা করেছে ইরানের সামরিক বাহিনী। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও তীব্র ও বিধ্বংসী পাল্টা হামলা চালানোর জন্য নিজেদের প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছে তেহরান।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরানের জেনারেল স্টাফ ট্রাম্পের বক্তব্যের সমালোচনা করে। ইরানের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের মঞ্চকে ব্যবহার করে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন আগ্রাসনকে ন্যায্যতা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
ইরানের জেনারেল স্টাফের ওই বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের ক্ষেত্রে কৌশলগত অচলাবস্থার প্রতিফলন ঘটছে ট্রাম্পের বক্তব্যে। বিবৃতিতে ট্রাম্পের বারবার দেওয়া হুমকিকে শক্তির প্রকাশ হিসেবে না দেখে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত হতাশার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন অবস্থান ও বক্তব্য থেকে দেশটির কৌশলগত অচলাবস্থা স্পষ্ট হচ্ছে। ইরানের সামরিক বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, হুমকি দিয়ে তেহরানকে চাপে ফেলার চেষ্টা করলেও ইরান নিজেদের প্রতিরক্ষার সক্ষমতা বজায় রেখেছে।
ইরানের সামরিক বাহিনী আরও সতর্ক করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পাল্টা আঘাত হানতে তারা প্রস্তুত। সম্ভাব্য সেই হামলা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি বিধ্বংসী ও অপ্রত্যাশিত হতে পারে বলে বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে।
ইরানের জেনারেল স্টাফের বিবৃতিতে ট্রাম্পের বক্তব্যের পাশাপাশি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যের প্রেক্ষাপটও তুলে ধরা হয়েছে। ইরানের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ এই মঞ্চ ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে তাদের সামরিক অবস্থানকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করছে।
এর আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প ইরানকে ঘিরে কঠোর অবস্থানের কথা জানান। ইরানকে নিশ্চিহ্ন করার হুমকিসহ দেশটির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে তিনি বক্তব্য দেন। তার এই বক্তব্যের পরই ইরানের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানানো হলো।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হয়ে উঠেছে। এর সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পৃক্ততা থাকায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ রয়েছে। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হুমকি ও সামরিক অবস্থান আঞ্চলিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চলছে।
ইরানের সামরিক বাহিনী তাদের বিবৃতিতে মূলত নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও পাল্টা হামলার প্রস্তুতির কথা তুলে ধরেছে। তবে বিবৃতিতে সম্ভাব্য হামলার সময়, লক্ষ্যবস্তু বা নির্দিষ্ট সামরিক পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কৌশলগত অচলাবস্থার অভিযোগ তোলা হলেও ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এ বিবৃতির বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়ার তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে দুই দেশের বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট হলেও এর পরবর্তী কূটনৈতিক বা সামরিক পদক্ষেপ কী হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন গুরুত্বপূর্ণ একটি মঞ্চ হিসেবে বিবেচিত হয়। সেখানে বিশ্বনেতাদের বক্তব্যের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় আলোচনা হয়ে থাকে। এমন একটি সময়ে ট্রাম্পের ইরানবিষয়ক বক্তব্য এবং তেহরানের সামরিক বাহিনীর পাল্টা প্রতিক্রিয়া মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকে আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
ইরানের জেনারেল স্টাফের বিবৃতির মূল বার্তা হলো, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কোনো সামরিক পদক্ষেপের জবাব দেওয়ার জন্য ইরানের সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। তারা সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়াকে আগের তুলনায় আরও শক্তিশালী ও অপ্রত্যাশিত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে।
আল জাজিরার বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। তবে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের বাইরে সম্ভাব্য সংঘাতের পরবর্তী গতিপথ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।