স্থানীয় সরকার নির্বাচনে খরচ প্রায় ৬ হাজার কোটি, এ বছর নাও হতে পারে
দেশের স্থানীয় সরকারের পাঁচ ধরনের নির্বাচন আয়োজন ও সম্পন্ন করতে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সম্ভাব্য ব্যয়ের হিসাব সরকারকে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তার ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এসব নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা কম। নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক কার্যক্রম ও সময়সীমা নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আগামী বছর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকারের পাঁচটি নির্বাচন সম্পন্ন করতে নির্বাচন কমিশন প্রাথমিকভাবে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার সম্ভাব্য বাজেট দিয়েছে। সরকারও এই পরিমাণ অর্থের ব্যবস্থা রাখার বিষয়ে প্রস্তুতি নিয়েছে। তবে এটি চূড়ান্ত হিসাব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচন আয়োজনের প্রকৃত ব্যয় পরিস্থিতি অনুযায়ী কম-বেশি হতে পারে।
মীর শাহে আলমের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনেই সবচেয়ে বেশি অর্থের প্রয়োজন হতে পারে। এ খাতে আনুমানিক ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ের হিসাব করা হয়েছে। অন্যদিকে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আয়োজন ও পরিচালনায় প্রায় ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।
ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেই মূলত বড় অংশের অর্থ ব্যয় হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। এর বাইরে পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন রয়েছে। তবে এসব নির্বাচনে ব্যয়ের পরিমাণ ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা নির্বাচনের তুলনায় তুলনামূলকভাবে কম হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক বক্তব্য ও কার্যক্রম দেখে তার কাছে মনে হচ্ছে না যে চলতি বছর স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি জানান, নির্বাচন কমিশন ৬ জুনকে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা হিসেবে উল্লেখ করেছে। এ পরিস্থিতিতে আগামী বছর থেকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের দিকে কমিশন এগোচ্ছে বলে মনে করছেন তিনি।
তবে নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা বা শুরুর সময় নির্ধারণের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার বলে স্পষ্ট করেছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী। তার মতে, নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব যেহেতু নির্বাচন কমিশনের, তাই সরকারের পক্ষ থেকে কখন নির্বাচন শুরু হবে তা নির্দিষ্ট করে বলা ঠিক হবে না।
প্রতিমন্ত্রী জানান, নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সচিব কমিটি একটি বৈঠকে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ বিষয়ে আরও একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। চলতি সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে অথবা অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে ওই বৈঠক হতে পারে। সেখানে নির্বাচন কমিশন ও সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।
সরকারের প্রত্যাশা সম্পর্কে জানতে চাইলে মীর শাহে আলম বলেন, চলতি অর্থবছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো শেষ করার বিষয়টি সরকারের চাওয়া। তবে নির্বাচন শুরুর সময় নির্ধারণ করবে নির্বাচন কমিশন। সরকার এ ক্ষেত্রে কমিশনের সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান রাখছে।
তিনি বলেন, নির্বাচন কবে শুরু হবে সে বিষয়ে সরকার থেকে আগাম কোনো সময়সীমা ঘোষণা করা হলে নির্বাচন কমিশনের জন্য তা বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। কারণ স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনার সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন দেশের তৃণমূল পর্যায়ের প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিত্বের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি, ভোটার তালিকা, নির্বাচনী সরঞ্জাম, আইনশৃঙ্খলা এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ।
এবারের সম্ভাব্য নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাবেও এসব ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন খরচ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার হিসাবটি সম্ভাব্য বাজেট এবং পরবর্তী প্রক্রিয়ায় এতে পরিবর্তন আসতে পারে।
প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী বৈঠক এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সময়সূচি আরও স্পষ্ট হতে পারে। চলতি অর্থবছরের মধ্যে নির্বাচনগুলো শেষ করার সরকারি প্রত্যাশা থাকলেও নির্বাচন শুরুর সময় ও ধাপ নির্ধারণের বিষয়টি কমিশনের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে।