সোনালি সাজে নাভ্যা, আবু জানি–সন্দীপ খোসলার গালায় নজরকাড়া লুক
ভারতের জনপ্রিয় ফ্যাশন ডিজাইনার আবু জানি ও সন্দীপ খোসলার চার দশকের ফ্যাশনযাত্রা উদ্যাপন উপলক্ষে বসেছিল তারকাখচিত জমকালো গালা। ফ্যাশন, চলচ্চিত্র ও বিনোদন অঙ্গনের পরিচিত মুখদের উপস্থিতিতে আয়োজনটি হয়ে ওঠে ঝলমলে। তবে অতিথিদের ভিড়ে নিজের ব্যতিক্রমী সাজ ও পোশাকের কারণে আলাদা করে নজর কাড়েন অভিনেত্রী নাভ্যা নভেলি নন্দা।
অনুষ্ঠানে নাভ্যাকে দেখা যায় অ্যান্টিক সোনালি রঙের ভারী কারুকাজ করা একটি মিনিড্রেসে। ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী গয়না এবং কুতুরের নান্দনিকতা থেকে অনুপ্রাণিত পোশাকটিতে ফুটে উঠেছে রাজকীয় আবহ। একই সঙ্গে ছোট দৈর্ঘ্যের পোশাক ও কাঠামোবদ্ধ নকশায় যুক্ত হয়েছে আধুনিক ফ্যাশনের ছোঁয়া।
নাভ্যার পোশাকের অন্যতম আকর্ষণ ছিল এর বডিস। বর্মের মতো কাঠামোবদ্ধ এই অংশে সোনালি রঙের স্তরযুক্ত সূচিকর্মের সঙ্গে ব্যবহার করা হয়েছে ধাতব পুঁতি, গোলাকার বিভিন্ন মোটিফ, চেইন এবং মুদ্রার আদলের অলংকরণ। ঘন কারুকাজের কারণে বডিসটিকে অনেকটা পরিধেয় গয়নার মতোই মনে হয়েছে।
পোশাকটির উপরের অংশে ছিল উঁচু গোলাকার গলার নকশা। ছোট হাতাতেও রাখা হয়েছিল ঘন অলংকরণ। শরীরের সঙ্গে মানানসই কাঠামোবদ্ধ বডিসটি নিচের দিকে গিয়ে যুক্ত হয়েছে ভারী কাজ করা মিনিস্কার্টের সঙ্গে। পুরো পোশাকে সোনালি রঙের আধিপত্য নাভ্যার লুকে তৈরি করেছে আভিজাত্যের আবহ।
ঐতিহ্যবাহী অলংকারের সমৃদ্ধি আর সমকালীন পোশাকের নকশাকে একসঙ্গে ব্যবহার করাই ছিল এই লুকের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। ছোট হেমলাইন এবং শরীরঘেঁষা কাঠামোবদ্ধ ফিট পোশাকটিকে দিয়েছে আধুনিকতার স্পষ্ট ছাপ। অন্যদিকে সোনালি কারুকাজ ও অলংকরণের ধরন ধরে রেখেছে ভারতীয় ঐতিহ্যের পরিচিত সৌন্দর্য।
ফলে নাভ্যার গালার সাজে একই সঙ্গে দেখা গেছে ঐতিহ্য এবং আধুনিকতার মেলবন্ধন। জমকালো আয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পোশাকটির নকশায় যেমন ছিল আভিজাত্য, তেমনি মিনিড্রেসের সিলুয়েটে ছিল সাহসী ও সমকালীন ফ্যাশন ভাবনা।
ফ্যাশন অঙ্গনে নাভ্যার উপস্থিতি নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পোশাক ও গ্ল্যামারাস উপস্থিতির পাশাপাশি নিজের পেশাগত পরিচয় নিয়েও কথা বলছেন তিনি। উদ্যোক্তা হিসেবে নিজের পথচলা এবং পরিবারের নারীদের কাছ থেকে পাওয়া অনুপ্রেরণার বিষয়টিও বিভিন্ন আয়োজনে তুলে ধরেছেন নাভ্যা।
সম্প্রতি জেনএআই রেডি নারী কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নিজের উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেন তিনি। সেখানে পরিবারের নারীদের ভূমিকার কথা বিশেষভাবে স্মরণ করেন নাভ্যা। তাঁর মতে, পরিবারের নারীদের কাছ থেকে পাওয়া উৎসাহ ও সমর্থন নিজের পথ তৈরি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
বিশেষ করে প্রয়াত দাদি ঋতু নন্দার কাছ থেকে পাওয়া অনুপ্রেরণার কথাও উল্লেখ করেন নাভ্যা। ঋতু নন্দা ছিলেন প্রয়াত অভিনেতা ও চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব রাজ কাপুরের মেয়ে এবং নিজেও উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ছোটবেলায় দাদিকে কাজ করতে দেখে উদ্যোক্তা হওয়ার বিষয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছিল বলে জানান নাভ্যা।
নিজের পরিবারের নারীদের প্রসঙ্গে নাভ্যা বলেন, তাঁর মা, খালা এবং দাদিসহ পরিবারের নারীরা সব সময় তাঁকে অনুপ্রেরণা ও সহযোগিতা করেছেন। তাঁদের উৎসাহ তাঁকে নিজের পছন্দ ও পেশাগত পথ বেছে নেওয়ার সাহস দিয়েছে।
পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে নাভ্যা জানিয়েছেন, তাঁদের ভালোবাসা ও সমর্থন তাঁর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সেই সমর্থনের মর্যাদা রাখতে এবং পরিবারের সদস্যদের গর্বিত করতে চান তিনি।
ফ্যাশনের মঞ্চে নাভ্যার সাম্প্রতিক উপস্থিতি তাই শুধু পোশাকের নান্দনিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। একদিকে তিনি নিজের স্বতন্ত্র ফ্যাশন পছন্দ দিয়ে আলোচনায় আসছেন, অন্যদিকে উদ্যোক্তা হিসেবে নিজের পরিচয়ও তৈরি করছেন। আবু জানি ও সন্দীপ খোসলার গালায় সোনালি কারুকাজের মিনিড্রেসে তাঁর উপস্থিতি সেই ধারাবাহিকতায় নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।