১৭ বছরের জঞ্জাল ১৭ দিনে শেষ হবে না: পানিসম্পদ মন্ত্রী
লক্ষ্মীপুর, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬:
দীর্ঘ সময়ের অগণতান্ত্রিক পরিবেশে দেশের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক জীবনে ক্ষতি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেছেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের সমস্যাগুলো অল্প সময়ের মধ্যে দূর করা সম্ভব নয়। এজন্য সময়ের প্রয়োজন এবং ধারাবাহিকভাবে কাজ করতে হবে।
শনিবার দুপুরে লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে প্রিন্সিপাল কাজী ফারুকী কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নানা যুদ্ধ, আন্দোলন, সংগ্রাম ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে। এরপরও দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকট পুরোপুরি কাটেনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময়ের একটি অরাজনৈতিক ও অগণতান্ত্রিক পরিবেশ দেশের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করেছে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের জীবন থেকে ১৭ বছর কেড়ে নেওয়া হয়েছে।’ তাঁর মতে, এই সময়ে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে ক্ষতি হয়েছে, তা দ্রুত পূরণ করা কঠিন। ১৭ বছরের জমে থাকা সমস্যাগুলো ১৭ দিন কিংবা সাত মাসের মধ্যে পুরোপুরি সমাধান হয়ে যাবে—এমন প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে ক্ষতির কথা
দীর্ঘ সময়ের প্রভাব তুলে ধরে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ওই সময়ে দেশের মানুষ বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষা বিস্তারে বাধা তৈরি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, অনেক তরুণের চাকরিতে প্রবেশের বয়স পার হয়ে গেছে। ফলে কর্মজীবনে প্রবেশের স্বাভাবিক সুযোগ থেকেও অনেকে বঞ্চিত হয়েছেন। পাশাপাশি পরিবার ও দেশের জন্য অবদান রাখার যে সময় ও সুযোগ তরুণদের থাকার কথা ছিল, সেটিও অনেকে কাজে লাগাতে পারেননি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
পানিসম্পদ মন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময়ের এই ক্ষতি শুধু ব্যক্তিগত পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকেনি; এর প্রভাব পরিবার ও সামগ্রিক সমাজের ওপরও পড়েছে।
তিনি বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে জনগণকে দীর্ঘ সময় ধরে আন্দোলন-সংগ্রাম করতে হয়েছে। নতুন প্রজন্মের তরুণ-তরুণীরাও বিভিন্ন আন্দোলনে অংশ নিয়েছে এবং নিজেদের অধিকার ও দাবির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
তরুণদের আন্দোলনের প্রসঙ্গ
বক্তব্যে জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন পানিসম্পদ মন্ত্রী। তিনি বলেন, এই প্রজন্মের তরুণরা জুলাই আন্দোলনে অংশ নিয়েছে। মেধার মূল্যায়ন এবং কোটা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে তারা আন্দোলন করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তাঁর বক্তব্যে তরুণদের আন্দোলন ও ভবিষ্যৎ প্রত্যাশার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। দেশের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি তরুণদের মেধা ও যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে।
মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ সময়ের ক্ষতি কাটিয়ে দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে হলে ধৈর্য ধরে কাজ করতে হবে। অতীতের সমস্যাগুলো একসঙ্গে সমাধান করা সম্ভব নয়। এজন্য ধারাবাহিক উদ্যোগ এবং সময়ের প্রয়োজন।
নবীনদের উদ্দেশে আয়োজন
প্রিন্সিপাল কাজী ফারুকী কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে নতুন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানানো হয়। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রফেসর কাজী ফারুকী কল্যাণ ট্রাস্টের কো-চেয়ারম্যান ডা. কাজী মো. নুর-উল ফেরদৌস। উদ্বোধক ছিলেন লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান কাউছার, রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া, রায়পুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জেড এম নাজমুল ইসলাম মিঠু, প্রফেসর কাজী ফারুকী কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান ভূঁইয়া, অধ্যক্ষ নুরুল আমিন এবং স্কুল শাখার প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টরা।
অনুষ্ঠানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন ব্যক্তিও উপস্থিত ছিলেন।
অতীতের ক্ষতি কাটিয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ
পানিসম্পদ মন্ত্রীর বক্তব্যে দেশের অতীতের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির প্রভাব এবং তা কাটিয়ে ওঠার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকা সমস্যাগুলো সমাধানে তাৎক্ষণিক ফল পাওয়ার প্রত্যাশার পরিবর্তে ধাপে ধাপে কাজ করতে হবে।
তাঁর মতে, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক ক্ষেত্রে যে ক্ষতি হয়েছে, সেগুলো মোকাবিলায় নতুন প্রজন্মের জন্য সুযোগ তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে তরুণদের শিক্ষা শেষ করে কর্মজীবনে প্রবেশের সুযোগ এবং নিজেদের যোগ্যতা কাজে লাগানোর পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব প্রয়োজন।
নবীনবরণ অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে মন্ত্রী দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রত্যাশার বিষয়টি তুলে ধরেন। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো কাটিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে সময়, ধৈর্য ও ধারাবাহিক উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
তিনি আবারও উল্লেখ করেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের সমস্যাগুলো স্বল্প সময়ে পুরোপুরি দূর করা সম্ভব নয়। তাই অতীতের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও ধারাবাহিক প্রচেষ্টা প্রয়োজন।