মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত শুরু হওয়ার পর দীর্ঘ অচলাবস্থার পর আবারও আংশিকভাবে সচল হতে শুরু করেছে হরমুজ প্রণালী। শিপিং ডাটার তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার থেকে ওমান, ফ্রান্স এবং জাপান-সম্পর্কিত একাধিক জাহাজ নিরাপদে প্রণালীটি অতিক্রম করেছে। খবর জানিয়েছে রয়টার্স।
সূত্র জানায়, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার পর ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়। তবে পরে ঘোষণা করে, যেসব জাহাজের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই, সেগুলোকে সীমিত আকারে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে।
এ পরিস্থিতিতে ওমান শিপিং ম্যানেজমেন্ট পরিচালিত দুটি বড় ক্রুড ক্যারিয়ার এবং একটি এলএনজি ট্যাংকার, একটি ফ্রান্স মালিকানাধীন কনটেইনার জাহাজ এবং একটি জাপানি মালিকানাধীন এলএনজি ক্যারিয়ার প্রণালীটি অতিক্রম করেছে। বিশেষ করে ফ্রান্স শিপিং কোম্পানি CMA CGM-এর একটি জাহাজ বৃহস্পতিবার প্রণালী পার হয়। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এই ঘটনায় জানান, “শুধুমাত্র কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে প্রণালী খোলা সম্ভব, সামরিক অভিযানে নয়।”
প্রতিবেদক সূত্র জানায়, জাপানের মিতসুই ও.এস.কে. লাইনস পরিচালিত এলএনজি ট্যাংকার “সোহর এলএনজি” প্রণালী অতিক্রম করেছে—যা সংঘাত শুরু হওয়ার পর প্রথম জাপান-সম্পৃক্ত এবং প্রথম এলএনজি জাহাজ হিসেবে এই রুট ব্যবহার করেছে।
তথ্য বলছে, ওমানের মাধ্যমে তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারও উপসাগর ছেড়ে গেছে। এছাড়া, জাপানি মালিকানাধীন বা পরিচালিত প্রায় ৪৫টি জাহাজ এখনও ওই অঞ্চলে আটকে আছে বলে জানা গেছে। একইভাবে পানামার পতাকাবাহী বড় একটি গ্যাসবাহী নৌযান চীনের পথে অতিক্রম করেছে।
শিপিং ডাটায় দেখা গেছে, জাহাজগুলো তাদের অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম (AIS) ব্যবহার করে জাতীয়তা সংকেত দিয়েছে। তবে পারাপারের সময় বেশ কিছু জাহাজ AIS বন্ধ রাখায় ট্র্যাকিং ডাটায় সাময়িকভাবে সংকেত পাওয়া যায়নি।