ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে (পবিস) মিনি ঠিকাদার তালিকাভুক্তি ও নবায়ন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, গোপনীয়তা এবং আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজন ঠিকাদারের দাবি, যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাদ দিয়ে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে জেলার বাইরের কিছু প্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
স্থানীয় ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, স্বল্পদৈর্ঘ্য লাইন নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও আপগ্রেডেশন কাজের জন্য গত বছরের মাঝামাঝি মিনি ঠিকাদার প্রাথমিক তালিকাভুক্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ওই প্রক্রিয়ায় ১৭২টি আবেদন জমা পড়ে। পরে তৎকালীন জেনারেল ম্যানেজারের সময়ে ৩৯টি প্রতিষ্ঠানকে প্রাথমিকভাবে তালিকাভুক্ত করা হয়, যাদের অধিকাংশই জেলার বাইরের বলে অভিযোগ।
অভিযোগ রয়েছে, ১৭২টি আবেদন স্বচ্ছভাবে যাচাই করে তালিকা চূড়ান্ত করার জন্য পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি রংপুর জোনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নির্দেশনা দিলেও তা অনুসরণ করা হয়নি। বরং সম্প্রতি গোপনে ৩৯টি প্রতিষ্ঠানের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন কয়েকজন ঠিকাদার।
স্থানীয় কয়েকজন ঠিকাদারের অভিযোগ, তালিকাভুক্তির পুরো প্রক্রিয়ায় একটি সিন্ডিকেট সক্রিয় ছিল। তাদের দাবি, রাজনৈতিক তদবির ও প্রভাবের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগে ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার নামও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
আরাফাত এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী এনামুল হক অভিযোগ করেন, তিনি নিয়ম মেনে আবেদন ও প্রয়োজনীয় ফি জমা দিলেও তালিকাভুক্ত হননি। তাঁর দাবি, সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম, ই অ্যান্ড সি) নাহিদ ইসলাম তাঁকে একজন বিএনপি নেতার সুপারিশ আনতে বলেছিলেন। এরপর বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে বলেও জানানো হয়।
অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে সহকারী জেনারেল ম্যানেজার নাহিদ ইসলাম এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। ডিজিএম (কারিগরি) লুৎফুল হাসান সরকার দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন প্রসঙ্গে বলেন, তাঁর কাজের মূল্যায়নের ভিত্তিতেই কর্তৃপক্ষ তাঁকে সেখানে রেখেছে। তবে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ঠিকাদার তালিকাভুক্তির অভিযোগ সম্পর্কে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার আশরাফুল আলম খান বলেন, মিনি ঠিকাদার তালিকাভুক্তির কার্যক্রম ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে এবং ১৭২টি আবেদনের বিপরীতে ৩৯টি প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত হয়েছে। অতীতের প্রক্রিয়া সম্পর্কে তাঁর জানা নেই বলেও তিনি জানান। তবে তালিকাভুক্তি প্রক্রিয়ায় পক্ষপাতিত্ব বা স্বচ্ছতার অভাবের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি নির্দিষ্ট কোনো মন্তব্য করেননি।
উল্লেখ্য, ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে ঘিরে অতীতে ঘুষ, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল, টেন্ডার অনিয়ম ও সেবায় দুর্বলতাসহ বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের বিষয়ে বিভিন্ন সময় দুর্নীতি দমন কমিশনেও অভিযোগ জমা পড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে দুদকের তদন্ত বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।