সাভার প্রতিনিধি
সাভার উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) হিসাবরক্ষক কাজী আসাদুল হায়দারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, ভুয়া শিক্ষাগত সনদ ব্যবহার এবং দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগে স্থানীয় ঠিকাদার এবং সাভার দুর্নীতি প্রতিরোধ নাগরিক কমিটি পৃথকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।
অভিযোগকারী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, কাজী আসাদুল হায়দার প্রায় ১৯ বছর ধরে একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নামসর্বস্ব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কেনা শিক্ষাগত সনদ ব্যবহার করে চাকরিতে প্রবেশ করেন এবং পরে পদোন্নতিও নেন। তবে এ অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সাভার দুর্নীতি প্রতিরোধ নাগরিক কমিটির সভাপতি মো. ইউনুচ মোল্লা ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ চান মিয়া অভিযোগ দেওয়ার পর এলজিইডি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (মান নিয়ন্ত্রণ) মো. ওয়াহিদুজ্জামান তদন্ত করে প্রধান প্রকৌশলীর কাছে প্রতিবেদন জমা দেন।
অভিযোগকারীদের দাবি, ওই তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ার পর কাজী আসাদুলকে অন্যত্র বদলি করা হয়। পরে তিনি ঘুষের মাধ্যমে তিন মাসের মধ্যে আবার সাভারে ফিরে আসেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
পরে সাভারের কয়েকজন ঠিকাদারও তাঁর বিরুদ্ধে পৃথক লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে বলা হয়, তিনি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নে দুটি প্লট, পাথালিয়া ইউনিয়নে জমি, একাধিক ফ্ল্যাট এবং বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ থাকার দাবি করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, পদোন্নতি ও পদায়নের ক্ষেত্রে ঘুষ লেনদেন এবং এলজিইডির আওতাধীন প্রকল্পে কর্মরত দুই নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগও রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো তদন্তকারী সংস্থার চূড়ান্ত প্রতিবেদন বা আদালতের সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সহকারী হিসাবরক্ষক থাকাকালে তিনি প্রভাব খাটিয়ে অন্য হিসাবরক্ষকদের বদলিতে বাধ্য করতেন এবং স্থানীয় একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে অবস্থান বজায় রাখেন। এসব অভিযোগও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে কাজী আসাদুল হায়দারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো বার্তারও কোনো জবাব দেননি।
এ বিষয়ে এলজিইডির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।