জাতীয় সংসদে সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ‘সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫’-এর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সর্বদলীয় সংসদীয় বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে এই প্রস্তাবকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ভিন্নমতও সামনে এসেছে।
সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধান সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জাতীয় সংসদের সব রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র সদস্যদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা যেতে পারে। এই কমিটির মাধ্যমে আলোচনা ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি গ্রহণযোগ্য সংশোধনী প্রস্তাব তৈরি সম্ভব হবে বলে তিনি মত দেন।
তথ্য বলছে, তিনি বিশেষভাবে ‘সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫’-এর সাংবিধানিক ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তার মতে, এই আদেশের আওতায় গঠিত সংস্কার পরিষদের আইনগত অবস্থান স্পষ্ট নয়।
এ প্রসঙ্গে সংবিধানের ৭২ ও ৭৩ অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেছেন, যা সংবিধানসম্মত। তবে সংস্কার পরিষদের ক্ষেত্রে তেমন কোনো সুস্পষ্ট সাংবিধানিক কাঠামো নেই।
সূত্র জানায়, তিনি ১৯৭১-৭২ সময়কালের রাষ্ট্রপতির আদেশের বৈধতার বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, প্রথম সংসদ অধিবেশন বসার পর রাষ্ট্রপতির আদেশ জারির ক্ষমতা সীমিত হয়ে যায়। সেই বিবেচনায় বর্তমান আদেশের আইনগত অবস্থান পর্যালোচনা জরুরি।
অন্যদিকে বিরোধী দলের নেতা ডা. শফিকুর রহমান এই প্রস্তাবে শর্তসাপেক্ষ সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো সংস্কার কমিটি গঠন করা হলে সেখানে সরকার ও বিরোধী দলের সমান সংখ্যক সদস্য থাকতে হবে।
অভিযোগ উঠছে, সংসদে আলোচনার সময় আইনমন্ত্রী তার বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপন করেছেন। এ বিষয়ে শফিকুর রহমান বলেন, তারা সংবিধান সংশোধনের নয়, বরং সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, সংসদ সদস্যদের আনুপাতিক হারে সদস্য নির্ধারণ করা হলে কার্যকর ফলাফল আসার সম্ভাবনা কম। বরং সমান প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হলে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
প্রশ্ন উঠছে, সর্বদলীয় কমিটি গঠনের এই প্রস্তাব কি রাজনৈতিক ঐকমত্য তৈরি করতে পারবে, নাকি এটি নতুন বিতর্কের জন্ম দেবে।