হামের সংক্রমণ পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক রূপ নিচ্ছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৯৪৭ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত তথ্যে এই চিত্র উঠে এসেছে, যা জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।
তথ্য বলছে, গত ২ এপ্রিল সকাল ৮টা থেকে ৩ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৯৪৭। এর মধ্যে নিশ্চিত রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৪২ জন। একই সময়ে সন্দেহজনকভাবে মৃত্যুবরণ করেছেন আরও তিনজন।
সূত্র জানায়, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে সন্দেহজনকভাবে হামে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৪ জনে।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, মাত্র ১৯ দিনের ব্যবধানে আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছেছে ৫ হাজার ৭৯২ জনে। জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষকদের মতে, এত স্বল্প সময়ে এই মাত্রার সংক্রমণ বৃদ্ধি একটি বড় ধরনের সতর্ক সংকেত।
প্রাথমিক পর্যায়ে সংক্রমণ প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে বিলম্ব হয়েছে কিনা, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকাদান কাভারেজে ঘাটতি, সচেতনতার অভাব এবং স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকারের সীমাবদ্ধতা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলতে পারে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের মধ্যেই সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি। সম্প্রতি হামের উপসর্গ নিয়ে আট মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনাও পরিস্থিতির গভীরতা নির্দেশ করছে।
প্রশ্ন উঠছে, বিদ্যমান স্বাস্থ্যব্যবস্থা এই বাড়তি চাপ সামাল দিতে কতটা প্রস্তুত। যদিও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশব্যাপী বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরুর প্রস্তুতি চলছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। একই সঙ্গে পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে সংক্রমণ আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।