নেপালের রাসুয়া জেলায় ভোতে কোশী নদীর ভয়াবহ বন্যার পর উদ্ধার, অনুসন্ধান ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করেছে দেশটির সরকার। দুর্গত এলাকায় মোট ১৩ হাজার ২৯৫ জন নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার নেপালের স্বরাষ্ট্র প্রশাসনের বরাত দিয়ে দেশটির সংবাদমাধ্যম নেপাল নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।
মোতায়েন করা সদস্যদের মধ্যে নেপাল পুলিশের ৭ হাজার ২৫০ জন, নেপালি সেনাবাহিনীর ৪ হাজার ২০০ জন এবং সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী নেপালের (এপিএফ) ১ হাজার ৮৪৫ জন সদস্য রয়েছেন।
বন্যার কারণে রাসুয়াসহ বিভিন্ন এলাকার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ফলে দুর্গম এলাকায় পৌঁছাতে স্থলপথের পাশাপাশি আকাশপথেও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। নেপাল সেনাবাহিনী ও বেসরকারি বিমান সংস্থার হেলিকপ্টারও এতে অংশ নিচ্ছে।
জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (NDRRMA) তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৬৯টি হেলিকপ্টার ফ্লাইট পরিচালনা করে বন্যাকবলিত এলাকা থেকে ৩৫১ জনকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নেওয়া হয়েছে।
প্রতিকূল আবহাওয়া ও নদীর প্রবল স্রোতের মধ্যেও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন দুর্গম ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোতে তল্লাশি এবং ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম বাড়িয়েছে।
বুধবার সকালে রাসুয়া এলাকায় ভোতে কোশী নদীতে পাহাড়ি ঢল নেমে আসার পর নেপালের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। নেপালি পুলিশের মুখপাত্র অভি নারায়ণ কাফলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত এ ঘটনায় ৩৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন এক হাজারের বেশি মানুষ। নিখোঁজদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য।
উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় হতাহত ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও পরিবর্তিত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সূত্র: নেপাল নিউজ