খুলনা ব্যুরো
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন, আওয়ামী লীগকে যেসব অভিযোগে ক্ষমতা থেকে বিদায় করা হয়েছিল, বর্তমান সরকারও সেসব সমস্যার পুনরাবৃত্তি করছে। তাঁর দাবি, দেশে আবারও চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, দমন-পীড়ন, লুটপাট ও দলীয়করণের প্রবণতা দেখা দিয়েছে। শুধু রাজনৈতিক দলের নাম পরিবর্তন হয়েছে, কর্মকাণ্ডে তেমন পরিবর্তন আসেনি।
শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেল ৪টায় খুলনার তেরখাদার নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় উপজেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন তেরখাদা উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা শেখ হাফিজুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা এমরান হোসাইন, নায়েবে আমির অধ্যক্ষ মাওলানা কবিরুল ইসলাম, সেক্রেটারি মুন্সী মিজানুর রহমান ও সহকারী সেক্রেটারি মুন্সী মঈনুল ইসলাম। উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মু. নাহিদ হাসান অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।
গোলাম পরওয়ার বলেন, দুর্নীতি, বৈষম্য, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিমুক্ত বাংলাদেশ প্রত্যাশা করে মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। ভিন্নমতের মানুষের ওপর নিপীড়ন, অন্যায়ভাবে মামলা, গ্রেপ্তার, রিমান্ড, কারাগারে পাঠানো এবং অর্থ পাচারের মতো কর্মকাণ্ড বন্ধ হবে—এমন প্রত্যাশাও ছিল জনগণের।
নির্বাচনের পর দেশের পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তুলে তাদের বিদায় করা হয়েছিল, বর্তমান সরকারও প্রায় একই পথে এগোচ্ছে। সরকারের ছয় মাসকে অল্প সময় হিসেবে দেখার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ছয় মাস কোনোভাবেই খুব কম সময় নয়।
কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জামায়াতের এই নেতা। তাঁর অভিযোগ, সরকারি সুবিধাভোগীদের তালিকা তৈরিতে রাজনৈতিক বিবেচনা করা হচ্ছে এবং বিএনপির বাইরে থাকা বিভিন্ন দলের সমর্থকদের নাম তালিকায় রাখা হচ্ছে না।
খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, রূপসা এলাকায় সন্ত্রাস ও মাস্তানি বেড়েছে। অস্ত্র নিয়ে সংঘাতের ঘটনাও ঘটছে বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর মতে, নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ যে পরিবর্তন প্রত্যাশা করেছিল, বাস্তবে তা পুরোপুরি আসেনি।
বক্তব্যে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিও জানান তিনি। তাঁর দাবি, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে দীর্ঘ আলোচনায় সাংবিধানিক, রাজনৈতিক ও বিচারিক বিষয়ে বেশ কিছু সংস্কারের বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছিল। ভবিষ্যতে কোনো সরকার যাতে কর্তৃত্ববাদী হয়ে উঠতে না পারে, সে জন্য রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামোয় পরিবর্তন আনার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
গণভোটের প্রসঙ্গ তুলে গোলাম পরওয়ার দাবি করেন, প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটার জুলাই সনদের পক্ষে মত দিয়েছিলেন। একই আদেশে অনুষ্ঠিত দুটি ভোটের একটিকে গ্রহণ করে অন্যটি প্রত্যাখ্যান করা যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপির ৩১ দফার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সংবিধান সংস্কারের জন্য কমিশন গঠনের কথা বলেছিল। এখন ক্ষমতায় গিয়ে মৌলিক সংস্কারের পরিবর্তে শুধু সংশোধনের কথা বলা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী একই সঙ্গে দলীয় প্রধানের দায়িত্বে থাকতে পারবেন না—এমন প্রস্তাবও জুলাই সনদে দলগুলো মেনে নিয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
সমাবেশ শেষে তেরখাদা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান এবং বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন গোলাম পরওয়ার। একই সঙ্গে তাদের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।