ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ কারা কর্তৃপক্ষ ও প্রসিকিউশনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর দুই ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজির করা হয় খুলনা-৪ (রূপসা-তেরখাদা-দিঘলিয়া) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মুর্শেদীকে।
সোমবার বিশেষ জজ আদালত-৯–এর বিচারক মো. আব্দুস সালামের আদালতে গুলশান-২ আবাসিক এলাকার ২৭ কাঠা সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় সালাম মুর্শেদীসহ ১৩ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশের দিন ছিল।
শুনানির শুরুতে কারা কর্তৃপক্ষ আদালতকে জানায়, অসুস্থতার কারণে সালাম মুর্শেদীকে আদালতে হাজির করা সম্ভব হয়নি।
মামলার এক আসামির আইনজীবী খাদেমুল ইসলামের ভাষ্য, এ সময় বিচারক জেল সুপারের প্রত্যয়ন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং এক ঘণ্টার মধ্যে সালাম মুর্শেদীকে আদালতে হাজির করতে নির্দেশ দেন। অন্যথায় কারা কর্তৃপক্ষ ও প্রসিকিউশনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। পরে আদালতের নির্দেশ জানানো হলে প্রায় দুই ঘণ্টার মধ্যে তাঁকে আদালতে হাজির করা হয়।
পরে আদালত ১৩ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। আগামী ১৯ আগস্ট সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে।
আদালতে উপস্থিতির পর সালাম মুর্শেদীর শারীরিক অবস্থা দুর্বল মনে হয়েছে বলে দাবি করেন আইনজীবী খাদেমুল ইসলাম।
মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন হুমায়ুন খাদেম, এম আজিজুল হক, লে. কর্নেল (অব.) এম নুরুল হক, আবদুর রহমান ভূঁঞা, মো. আজহারুল ইসলাম, মো. হাবিব উল্লাহ, আবদুস সোবহান, মো. মাহবুবুল হক, মীর মোহাম্মদ হাসান, মীর মো. নুরুল আফছার, ইফফাত হক ও মোহাম্মদ আব্দুল মঈন।
মামলার নথি অনুযায়ী, আসামিদের বিরুদ্ধে পরস্পরের যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার, জাল নথি তৈরি এবং গুলশান-২ এলাকার ২৭ কাঠা সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের সুযোগ সৃষ্টি করার অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগ এখন বিচারাধীন; এ বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর সালাম মুর্শেদীসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। এর আগে, ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।