নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালনায় সুশাসন নিশ্চিত, সৎ ও পেশাদার ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন এবং ব্যাংকটির মালিকানা প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংক থেকে লুণ্ঠিত অর্থ উদ্ধারের উদ্যোগ, দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা এবং গ্রাহকদের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিও তুলেছে সংগঠনটি।
সোমবার রাজধানীর দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংক টাওয়ার চত্বরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরে সংগঠনটি। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ফোরামের আহ্বায়ক অধ্যাপক নুরুন্নবী মানিক। এ সময় সদস্যসচিব মোতাছিম বিল্লাহসহ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে নুরুন্নবী মানিক বলেন, ইসলামী ব্যাংক দেশের প্রথম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক এবং বিপুলসংখ্যক গ্রাহকের আমানত ও আস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাঁর দাবি, ব্যাংকটির স্থিতিশীলতা দেশের অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, গত ২৪ মে থেকে গ্রাহকেরা মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদান, সংবাদ সম্মেলন এবং বাংলাদেশ ব্যাংক–এর গভর্নরের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে ব্যাংকে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, স্থিতিশীলতা নিশ্চিত এবং গ্রাহকদের আমানতের নিরাপত্তার দাবি জানিয়ে আসছেন। একই সঙ্গে সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খানকে পুনর্বহালের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ফোরামের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান খুরশিদ আলমকে অপসারণ করেছে। এছাড়া ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৮/ক ধারা বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হলেও তা এখনো আইনে পরিণত হয়নি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তারল্য সহায়তায় গ্রাহকদের মধ্যে কিছুটা আস্থা ফিরেছে বলেও সংগঠনটির দাবি।
সংগঠনটি সাত দফা দাবি পুনর্ব্যক্ত করে। এর মধ্যে রয়েছে—সৎ, যোগ্য ও পেশাদার পরিচালনা পর্ষদ গঠন, প্রকৃত মালিকদের কাছে মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়া, ব্যাংক লুটপাটের অভিযোগের বিচার করতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন, লুণ্ঠিত অর্থ উদ্ধার ও দায়ীদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত, ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত, ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৮/ক ধারা বাতিল এবং ইসলামী ব্যাংক নিয়ে জাতীয় সংসদে দেওয়া বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রত্যাহার।
দাবি বাস্তবায়ন না হলে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে সংগঠনটি ৯ জুলাই ইসলামী ব্যাংক টাওয়ার থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাব পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল, ১৪ জুলাই জেলা শহরের বিভিন্ন শাখার সামনে অবস্থান কর্মসূচি এবং ১৮ জুলাই রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে গ্রাহক মহাসমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করে।