রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন অর্থোডক্স ইস্টার উপলক্ষে ইউক্রেন যুদ্ধের ফ্রন্টে সাময়িক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ৩২ ঘণ্টার এই যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্তের কথা জানায় ক্রেমলিন। খবরটি নিশ্চিত করেছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
ক্রেমলিনের ঘোষণায় বলা হয়েছে, শনিবার বিকেল ৪টা (মস্কো সময়, ১৩০০ জিএমটি) থেকে রবিবার মধ্যরাত (২১০০ জিএমটি) পর্যন্ত সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। তবে একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, যেকোনো “উস্কানি” বা আক্রমণাত্মক কর্মকাণ্ডের জবাবে পাল্টা ব্যবস্থা নিতে সেনাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।
রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রেই বেলোসভ সেনাপ্রধান ভ্যালেরি গেরাসিমভকে নির্দেশ দিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ে সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান বন্ধ রাখতে। তবে যুদ্ধবিরতির সময় নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং সম্ভাব্য আক্রমণ প্রতিহত করার প্রস্তুতি বজায় রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
ক্রেমলিন বলেছে, তারা আশা করছে ইউক্রেনও একই ধরনের যুদ্ধবিরতি নীতিতে অংশ নেবে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে তিনি বলেন, কিয়েভ এই যুদ্ধবিরতি মেনে চলবে। একই সঙ্গে তিনি রাশিয়াকে সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার পর যেন আবার হামলা শুরু না হয়।
জেলেনস্কি আরও বলেন, ইউক্রেন অর্থোডক্স ইস্টার উপলক্ষে বারবার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়ে আসছে। তার মতে, ইস্টারকে কেন্দ্র করে একটি সত্যিকারের শান্তিপূর্ণ বিরতি প্রয়োজন, যেখানে দুই পক্ষই দায়িত্বশীল আচরণ করবে।
তিনি বলেন, যুদ্ধের হুমকিমুক্ত একটি ইস্টার উদযাপন শান্তির পথে একটি বাস্তব পদক্ষেপ হতে পারে, যদি উভয় পক্ষ পারস্পরিকভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সাময়িক যুদ্ধবিরতি এমন সময় এলো যখন দীর্ঘস্থায়ী রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের কূটনৈতিক সমাধান নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা বিভিন্ন বৈশ্বিক সংঘাতের কারণে কিছুটা স্থবির রয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই যুদ্ধবিরতি সাময়িকভাবে ফ্রন্টে উত্তেজনা কমাতে পারে, তবে এর স্থায়িত্ব এবং বাস্তব কার্যকারিতা নির্ভর করবে দুই পক্ষের পারস্পরিক আস্থা ও বাস্তব পদক্ষেপের ওপর।