ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. আব্দুল্লাহ আল মাসউদের বিরুদ্ধে অশালীন প্রস্তাব, অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন সদর উপজেলার সদ্য বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হোসনে আরা। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) এ সংক্রান্ত একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
ভাইরাল হওয়া অডিও ক্লিপে ইউএনও হোসনে আরাকে স্থানীয় এক সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলতে শোনা যায়। সেখানে তিনি জেলা প্রশাসকের চারিত্রিক ও প্রশাসনিক বিভিন্ন দিক নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং একাধিক অভিযোগ তোলেন।
ইউএনও হোসনে আরার দাবি, জেলা প্রশাসক তাকে টাকাসহ বিভিন্ন অনৈতিক প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এসব প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে বিধিবহির্ভূতভাবে বদলি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। অডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, “একটা মানুষের যত খারাপ দোষ থাকে সবকিছুই ওনার আছে। ওনার কোনো চরিত্র নেই।”
তিনি জেলা প্রশাসককে ‘দ্বিমুখী’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “তিনি একদিকে মন্ত্রীর পা ছুঁয়ে আসেন, আবার অন্যদিকে জামায়াতের সঙ্গে সখ্য রাখেন।” পাশাপাশি লাখ টাকার দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তিনি প্রশ্ন করেন, এসব বিষয়ে কেন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে না।
অডিওতে আরও অভিযোগ করা হয়, তার দুই অসুস্থ সন্তান থাকা সত্ত্বেও তাকে দ্রুত কর্মস্থল ত্যাগ করতে চাপ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ২৮ মার্চ জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি এবং আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে সখ্যতার অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক পোস্ট ভাইরাল হয়। ওই সময় জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মাসউদ এসব অভিযোগ ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ দাবি করে সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
জিডিতে তিনি পাঁচটি ফেসবুক আইডির বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগ তুলে উল্লেখ করেন, একটি বিশেষ গোষ্ঠী তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করছে।
ইউএনও’র অডিও ছড়িয়ে পড়ার পর জেলার সচেতন নাগরিক সমাজের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নাগরিক প্রতিনিধিরা বলছেন, “একজন জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে নিজ দপ্তরের কর্মকর্তার এমন অভিযোগ প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার ওপর গুরুতর প্রশ্ন তোলে।”
তারা দ্রুত এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তথ্য বলছে, প্রশাসনের অভ্যন্তরে এমন অভিযোগ প্রকাশ্যে আসায় চেইন অব কমান্ড নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সূত্র জানায়, বিষয়টি নিয়ে উচ্চপর্যায়ে আলোচনাও শুরু হয়েছে।
তবে পুরো বিষয়টি নিয়ে এখন পর্যন্ত সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মাসউদ।
এদিকে প্রশাসনিক এই পরিস্থিতিতে ঝিনাইদহের সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।