টাঙ্গাইলের একটি ফলবাগানে ফসল রক্ষার নামে পাতা জালে আটকে শত শত বন্য পাখির মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, গত প্রায় এক মাস ধরে বাগানজুড়ে পাতানো নাইলনের সূক্ষ্ম জালে দোয়েল, শালিক, ঘুঘুসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি আটকে প্রাণ হারাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সন্ধানপুর ইউনিয়নের নুরনগর ওয়ার্ডের বটতলা বিট এলাকার কৃষক গফুর ও তার সন্তান ফারুক তাদের ফলবাগান রক্ষায় গাছজুড়ে শক্ত প্লাস্টিক বা নাইলনের জাল ব্যবহার করেন। ফলের লোভে আসা পাখিরা সেই জালে আটকে পড়ছে বলে অভিযোগ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বাগানের বিভিন্ন গাছে জাল টানানো অবস্থায় রয়েছে, যেখানে বহু পাখির নিথর দেহ ঝুলে থাকতে দেখা গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিদিনই এভাবে পাখির মৃত্যু ঘটছে।
এক স্থানীয় পরিবেশকর্মী বলেন, “ফসল রক্ষার অধিকার কৃষকের আছে, কিন্তু নির্বিচারে পাখি হত্যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি স্পষ্টতই পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী আইনের লঙ্ঘন।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, একাধিকবার সতর্ক করার পরও ওই কৃষক বিকল্প কোনো পদ্ধতি গ্রহণ করেননি। এতে এলাকায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে।
পরিবেশবিদরা বলছেন, এভাবে পাখি নিধন চলতে থাকলে স্থানীয় জীববৈচিত্র্যে মারাত্মক প্রভাব পড়বে। তাদের মতে, এসব পাখি প্রাকৃতিকভাবে ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে পাখির সংখ্যা কমে গেলে কৃষিজমিতে পোকামাকড়ের আক্রমণও বাড়তে পারে।
স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি দ্রুত কৃষি ও বন বিভাগের নজরে আনা উচিত এবং পরিবেশবান্ধব বিকল্প পদ্ধতিতে বাগান সুরক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
নাজমুল আদনান টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি