ওয়াশিংটন ডিসিতে রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করছে। একদিকে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-এর সঙ্গে চলমান ব্যয়বহুল সংঘাত, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা, জ্বালানির ঊর্ধ্বমুখী দাম এবং গণবিক্ষোভ—সব মিলিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন নজিরবিহীন চাপে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তথ্য বলছে, সাম্প্রতিক রয়টার্স/ইপসোস জরিপ অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জনসমর্থন নেমে এসেছে মাত্র ৩৬ শতাংশে। সূত্র জানায়, এই হার তার দ্বিতীয় মেয়াদের মধ্যে সর্বনিম্ন। অভিযোগ উঠছে, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ এবং অর্থনৈতিক চাপ সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এমন পরিস্থিতি আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দামে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তথ্য বলছে, গ্যাসোলিনের দাম গ্যালনপ্রতি প্রায় ৩.৯৮ ডলারে পৌঁছেছে, যা সাম্প্রতিক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে অধিকাংশ পরিবারের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা গাড়িনির্ভর হওয়ায় জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি জীবনযাত্রার ব্যয়ে চাপ সৃষ্টি করছে। প্রশ্ন উঠছে, এই মূল্যবৃদ্ধি কি দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য, চিকিৎসা ও অন্যান্য মৌলিক খাতে ব্যয় সংকোচনের কারণ হয়ে দাঁড়াবে?
সূত্র জানায়, ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির বিরুদ্ধে দেশজুড়ে ‘নো কিংস’ নামে গণবিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, লাখো মানুষ এতে অংশ নিয়েছে এবং ৫০টি অঙ্গরাজ্যে হাজারো কর্মসূচি পালিত হয়েছে। অভিযোগ উঠছে, প্রশাসনের কঠোর নীতি এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কিছু বিতর্কিত পদক্ষেপ এই আন্দোলনকে উসকে দিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই আন্দোলন শুধু বড় শহরেই নয়, ছোট কমিউনিটিতেও ছড়িয়ে পড়ায় রাজনৈতিক বার্তা আরও শক্তিশালী হচ্ছে।
তথ্য বলছে, আগামী ৩ নভেম্বর ২০২৬ অনুষ্ঠিতব্য ‘মিডটার্ম’ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক সমীকরণ জটিল হয়ে উঠছে। এই নির্বাচনে কংগ্রেসের ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, ডেমোক্র্যাটরা যদি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নেয়, তাহলে কি ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে নতুন করে তদন্ত ও অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু হবে?
সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভস অভিশংসনের প্রস্তাব পাস করতে পারে এবং সিনেটে বিচার সম্পন্ন হয়। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কংগ্রেসে ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটলে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে তদন্ত জোরদার হতে পারে। অভিযোগ উঠছে, অতীত সম্পর্ক, আর্থিক লেনদেন এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে বিরোধী দল ইতোমধ্যে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে।
তথ্য বলছে, চলমান সংঘাত মোকাবিলায় প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত বাজেট চাওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে যুদ্ধের প্রথম কয়েকদিনেই বিপুল অর্থ ব্যয়ের তথ্য সামনে এসেছে। প্রশ্ন উঠছে, এই বিপুল ব্যয়ের অর্থায়ন কীভাবে হবে এবং তা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে কী ধরনের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে?
সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে এক জটিল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তথ্য বলছে, যুদ্ধ, অর্থনীতি এবং জনমতের এই ত্রিমুখী চাপই ট্রাম্প প্রশাসনের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রশ্ন উঠছে, প্রশাসন কি দ্রুত এই সংকট মোকাবিলা করতে পারবে, নাকি আসন্ন নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক গতিপথে বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে আসবে?