আন্তর্জাতিক ডেস্ক
তেহরান থেকে জানা যায়, ইরানের সঙ্গে কোনো আলোচনায় বসার আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-কে একটি ‘স্বল্পমেয়াদী ও শক্তিশালী’ স্থল অভিযান চালানোর জন্য চাপ দিচ্ছে ইসরায়েল। বুধবার ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম মাআরিভ এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
তথ্য বলছে, ইসরায়েল আশঙ্কা করছে, ইরান তার সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি হারানোর আগে ওয়াশিংটন আলোচনার দিকে ঝুঁকে পড়তে পারে। এজন্য ইসরায়েলি কর্মকর্তারা ট্রাম্প প্রশাসনকে সামরিক অভিযান শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন।
সূত্র জানায়, ইসরায়েল মনে করছে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের সামনে এখন দুটি পথ খোলা আছে—একটি হলো সংঘাত আরও বাড়ানো, অন্যটি সমঝোতায় যাওয়া। তবে অভিযোগ উঠছে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তার উপদেষ্টারা প্রথম বিকল্পকেই বেছে নিতে আগ্রহী।
তাদের মতে, ইরানকে কোণঠাসা করতে দেশের জ্বালানি অবকাঠামো, বিশেষ করে তেল রফতানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ এবং সাউথ পার্স গ্যাস ক্ষেত্রে হামলা জোরদার করা প্রয়োজন। সূত্র জানায়, ট্রাম্প ইরানকে আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন; সময় শেষ হলে বড় ধরনের হামলার হুমকি রয়েছে।
তবে ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলোও এই যুদ্ধকে কেন্দ্র করে উদ্বিগ্ন। তারা আশঙ্কা করছে, অসমাপ্ত যুদ্ধে ইরান আরও ‘উগ্র ও প্রতিশোধপরায়ণ’ হয়ে উঠতে পারে।
তথ্য বলছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল বিমান হামলায় -এর সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিসহ প্রায় ২ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। বিপরীতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে পাল্টা জবাব দিচ্ছে, যা বিশ্ববাজার ও বিমান চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।
সূত্র জানায়, ইসরায়েলের লক্ষ্য হচ্ছে ইরানের অর্থনীতি এমনভাবে পঙ্গু করা যাতে তারা পুনরায় ঘুরে দাঁড়াতে না পারে। এসব পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত এবং কূটনৈতিক পথের ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক পরিসরে গুরুত্বসহকারে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।