রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের সামনে দীর্ঘ সময় ধরে মানববন্ধন করেছেন যুবদল ও ছাত্রদলের সাবেক নেতারা। দীর্ঘদিন দলের জন্য কাজ করেও সাংগঠনিক পদ-পদবী থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ তুলে শনিবার বিকেল থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।
মানববন্ধনে বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সাবেক নেতারা অংশ নিয়ে দাবি করেন, দলের সবচেয়ে কঠিন সময়ে তারা রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন। রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে অনেকে হামলা, মামলা, গ্রেপ্তার, নির্যাতন ও দীর্ঘ কারাভোগের শিকার হয়েছেন। তবুও দল ও আদর্শের প্রতি আনুগত্য থেকে তারা কখনো সরে যাননি।
তাদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সাংগঠনিক কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের মূল্যায়ন করা হয়নি। বরং অনেক ক্ষেত্রে তুলনামূলক নতুন বা কম সক্রিয় ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে তৃণমূল পর্যায়ের দীর্ঘদিনের কর্মীদের মধ্যে হতাশা ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
বক্তারা বলেন, এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য কোনো ব্যক্তি বা নেতৃত্বের বিরোধিতা নয়; বরং দলের শীর্ষ নেতৃত্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করা। তারা চান, ভবিষ্যতে সাংগঠনিক পদ-পদবী প্রদানের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত বিবেচনার পরিবর্তে রাজনৈতিক ত্যাগ, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এবং আন্দোলনে অবদানকে গুরুত্ব দেওয়া হোক।
তাদের ভাষ্য, সংকটের সময়ে যারা রাজপথে দলের পক্ষে ভূমিকা রেখেছেন, তাদের যথাযথ মূল্যায়ন না হলে সংগঠনের ভিত্তি দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিপরীতে ত্যাগী নেতাদের দায়িত্বে আনলে দল আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী হবে।
মানববন্ধনে ছাত্রদল ও যুবদলের কেন্দ্রীয় এবং বিভিন্ন ইউনিটের সাবেক নেতা রফিকুল ইসলাম রফিক, হুমায়ুন কবির, সাজ্জাদ হোসেন উজ্জ্বল, রিয়ন তালুকদার, মাহফুজুর রহমান মাহফুজ, ইসমাইল খান শাহিন, শরীফ হাফিজুর রহমান হাফিজ, আজিজুল হক পাটোয়ারী, মিজানুর রহমান খান, শরীফ আল ফরহাদ দিপু, মোহাম্মদ আরিফ, রাকিবুল ইসলাম রোকন, ইয়াকুব রাজু, স্বপন কুমার মণ্ডল, রবিউল হাসান আরিফ, নজরুল ইসলাম নাহিদ, খসরু আহমেদ হিরন, খন্দকার আমিনুল হক আকন, মাজেদুল ইসলাম মাসুম, জসিম উদ্দিন সিদ্দিকী শোভন, আমির হোসেন বাদশাসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
তবে এ বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কোনো তাৎক্ষণিক আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। দলীয় সূত্রের দাবি, মানববন্ধনে উত্থাপিত বিষয়গুলো সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট মহল অবগত রয়েছে এবং বিষয়টি ভবিষ্যতে দলীয় ফোরামে আলোচনায় আসতে পারে।
কর্মসূচি শেষে অংশগ্রহণকারীরা জানান, তারা এখনও বিএনপির আদর্শ ও কর্মসূচির প্রতি আস্থাশীল। তবে দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও সাংগঠনিক অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি এবং ন্যায়সঙ্গত মূল্যায়নের প্রত্যাশা থেকেই তারা এই শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনের আয়োজন করেছেন।