নিজস্ব প্রতিবেদক:
গুম-খুনের শিকার ব্যক্তি ও জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের ৭৪ সদস্যকে সরকারি চাকরির নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিয়োগপ্রাপ্তদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, গুম-খুনের শিকার পরিবার এবং জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের মোট ৭৪ জনকে চাকরির নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে তাদের মধ্যে ১০ জনের হাতে সরাসরি নিয়োগপত্র তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।
নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন গুমের শিকার ইফতেখার আহমেদ দিনারের ভাই ইশফাক আহমেদ, নুরুজ্জামান জনির ভাই মনিরুজ্জামান হীরা, আনোয়ার হোসেন মাহবুবের ভাই আনান হোসেন নূর, সেলিম রেজা পিন্টুর ভাই হাসনাইন রেজা এবং খালেদ হোসেন সোহেলের স্ত্রী শাম্মী সুলতানা।
এ ছাড়া জুলাই অভ্যুত্থানে আহত দৃষ্টিশক্তিহীন যোদ্ধা আলাল আহমেদ, শহীদ আলভীর বাবা মো. আবুল হোসাইন, শহীদ আহনাফের মা জারতাজ পারভীন, আহত যোদ্ধা কাজী সাইমুম সিরাজ এবং ইসরাফিল ইসলামের ভাই মাহবুব আলমও নিয়োগ পেয়েছেন।
নিয়োগপত্র পাওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তারা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে গুম-খুনের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো নানা ধরনের সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। চাকরির সুযোগ তাদের জীবনযাত্রায় কিছুটা স্থিতিশীলতা আনতে সহায়ক হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
তবে একই সঙ্গে তারা গুম ও খুনের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান। তাদের বক্তব্য, পরিবারের সদস্য হারানোর ক্ষতি কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়; তবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, পুনর্বাসন ও ন্যায়বিচার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
এর আগে শনিবার সকালে ঝিনাইদহে এক অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, গুম প্রতিরোধ ও মানবাধিকার কমিশনসংক্রান্ত নতুন আইন আগামী দুই কার্যদিবসের মধ্যে জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হবে। এ আইন নিয়ে রোববার সংসদীয় কমিটিতে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, গুম-খুনের শিকার পরিবারগুলোর পুনর্বাসন এবং সংশ্লিষ্ট ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করার উদ্যোগের অংশ হিসেবেই বিভিন্ন কার্যক্রম নেওয়া হচ্ছে।