নিজস্ব প্রতিবেদক
দীর্ঘদিন সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা শেষে আগামী ২ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় তিনি দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার দেশে ফেরাকে ঘিরে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
রোববার বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান মির্জা আব্বাসের দেশে ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আগামী ২ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে ঢাকায় অবতরণের কথা রয়েছে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতার।
শায়রুল কবির খান বলেন, দীর্ঘদিন সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা নেওয়ার পর মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী মির্জা আব্বাস এখন অনেকটাই সুস্থ। আল্লাহর রহমতে তার শারীরিক অবস্থার যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শের পরই তিনি দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
জানা গেছে, শারীরিক অসুস্থতার কারণে বেশ কিছুদিন ধরে দেশের বাইরে অবস্থান করে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন মির্জা আব্বাস। প্রথমে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনি মালয়েশিয়ায় যান। সেখানে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে থেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করেন। সর্বশেষ মেডিকেল বোর্ড তার শারীরিক অবস্থা পর্যালোচনা করে দেশে ফেরার বিষয়ে পরামর্শ দেয়।
বিএনপির রাজনীতিতে মির্জা আব্বাস দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও গুরুত্বপূর্ণ নেতা। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে তিনি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলন, সাংগঠনিক কর্মসূচি ও দলীয় কর্মকাণ্ডে তার সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে।
দীর্ঘ সময় চিকিৎসার জন্য বিদেশে অবস্থান করায় সাম্প্রতিক সময়ে দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতে তার সরাসরি উপস্থিতি ছিল না। দেশে ফেরার পর তিনি আবারও রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় হবেন বলে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রত্যাশা রয়েছে।
মির্জা আব্বাসের দেশে ফেরার খবর ইতোমধ্যে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে স্বস্তি তৈরি করেছে। তার সুস্থতার জন্য দলীয় নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা দোয়া করেছেন। চিকিৎসা শেষে তিনি যেন সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ফিরতে পারেন—এমন প্রত্যাশাই করছেন তারা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে ফেরার পর মির্জা আব্বাসের পরবর্তী চিকিৎসা, বিশ্রাম ও শারীরিক পরিস্থিতি চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী পরিচালিত হবে। তবে আপাতত ২ সেপ্টেম্বর রাতেই তার দেশে ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বিএনপি।
দীর্ঘ চিকিৎসা পর্ব শেষে মির্জা আব্বাসের দেশে ফেরাকে তাই শুধু একজন জ্যেষ্ঠ নেতার প্রত্যাবর্তন হিসেবেই দেখছেন না দলটির নেতাকর্মীরা; বরং রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে তার পুনরায় সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনাও দেখছেন তারা।