অচিরেই বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান হবে : এস এম জিলানী
জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানী বলেছেন, দেশের বিদ্যুৎ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সরকার কাজ করছে। অচিরেই বিদ্যুৎ সংকটের স্থায়ী সমাধান হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহের সাময়িক সমস্যার কারণে সাধারণ মানুষের যে ভোগান্তি হচ্ছে, সে জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার কলাবাড়ি ইউনিয়নের পশ্চিম মাছপাড়া এলাকায় স্থানীয় গ্রামবাসীর সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
এস এম জিলানী বলেন, বিদ্যুৎ সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। এ সমস্যা সমাধানে জ্বালানি খাতের বিদ্যমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে খুব শিগগিরই বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে গ্যাসের ওপর দীর্ঘদিন ধরে নির্ভরতা রয়েছে। গত ১৭ বছরে দেশে যেসব বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, তার বেশিরভাগই গ্যাসভিত্তিক ছিল বলে দাবি করেন তিনি। কিন্তু দেশের মাটির নিচে থাকা গ্যাসের মজুত উত্তোলনের জন্য আগের সময়ে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এস এম জিলানী বলেন, দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দ্রুত সময়ের মধ্যে ১৫০টি গ্যাসকূপ খননের উদ্যোগ নিয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ৩০টি কূপ থেকে গ্যাস উত্তোলন শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বাকি ১২০টি কূপ থেকেও আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে গ্যাস উত্তোলন শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন এস এম জিলানী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কূপ থেকে গ্যাস উৎপাদন শুরু হলে দেশের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর চাপ কমবে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনেও এর প্রভাব পড়বে।
মতবিনিময় সভায় তিনি সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কথাও তুলে ধরেন। এস এম জিলানী বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। ক্ষমতায় যাওয়ার পর সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের আগে ফ্যামিলি কার্ড চালুর কথাও বলা হয়েছিল। ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সরকারের বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও সভায় উল্লেখ করেন তিনি।
দেশকে সবুজ ও পরিবেশবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন এস এম জিলানী। তিনি বলেন, পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনার কথা নির্বাচনের আগে জানানো হয়েছিল। এরই মধ্যে এক কোটি গাছ লাগানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। পর্যায়ক্রমে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা হবে বলেও জানান তিনি।
এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের খাল পুনঃখননের বিষয়েও কথা বলেন তিনি। এস এম জিলানী বলেন, খাল খননের প্রতিশ্রুতিও বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সরকারের ঘোষিত অন্যান্য প্রতিশ্রুতিও বাস্তবায়ন করা হবে।
মতবিনিময় সভায় স্থানীয় বাসিন্দারা এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। স্থানীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ সরবরাহসহ বিভিন্ন বিষয়ে তারা জনপ্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় এস এম জিলানী তাদের কথা শোনেন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন কলাবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বাবুল মজুমদার। এ সময় কোটালীপাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার হাওলাদার, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিউর রহমান হাওলাদারসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া সভায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে গৃহিণী দুর্গা রায়, কৃষক বুলবুল রায় ও হিরো বিশ্বাস বক্তব্য দেন। তারা এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ও জনগণের প্রয়োজনের বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
এস এম জিলানী বলেন, জনগণের সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিদ্যুৎ পরিস্থিতির সাময়িক অসুবিধার জন্য তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতির আশ্বাস দেন।
তিনি বলেন, সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হলে বিদ্যুৎ, কৃষি, পরিবেশ ও স্থানীয় অবকাঠামোসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিবর্তন আসবে। জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে তাদের প্রয়োজন ও সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
মতবিনিময় সভায় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে এলাকার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বিদ্যুৎ সমস্যার পাশাপাশি কৃষি, পরিবেশ ও উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা করেন বক্তারা। সভা শেষে স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এস এম জিলানী।