হযরত শাহজালাল (র.)-এর মাজার জিয়ারত করলেন রাষ্ট্রপতি
নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সিলেটে হযরত শাহজালাল (র.)-এর মাজার জিয়ারত করেছেন। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গাড়িবহর নিয়ে তিনি মাজার এলাকায় পৌঁছান। এ সময় মাজার কর্তৃপক্ষ তাকে স্বাগত জানান।
মাজার জিয়ারত শেষে রাষ্ট্রপতি দেশ ও জাতির কল্যাণ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। সেখানে তিনি কিছু সময় অবস্থান করেন। পরে তিনি হযরত শাহপরাণ (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের উদ্দেশ্যে সেখান থেকে রওনা হন।
রাষ্ট্রপতির মাজার জিয়ারতের সময় তাঁর সঙ্গে সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং সিলেটের বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সদস্যরা।
এ ছাড়া সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন এবং সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সিলেটের জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারাও এ সময় রাষ্ট্রপতির সফরসঙ্গী ছিলেন।
রাষ্ট্রপতির আগমন উপলক্ষে মাজার এলাকা ও আশপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। তিনি মাজারে পৌঁছানোর সময় এবং জিয়ারত শেষে বের হওয়ার সময় সড়কের দুই পাশে বিপুলসংখ্যক মানুষ দাঁড়িয়ে তাঁকে শুভেচ্ছা জানান। নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টেও সিলেট মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীদের উপস্থিতি দেখা যায়। তাঁরা রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানান।
এর আগে মঙ্গলবার সকালে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ১২ মিনিট দেরিতে রাষ্ট্রপতিকে বহনকারী বিমান সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানটি সকাল ১১টা ২৭ মিনিটে বিমানবন্দরে পৌঁছায়।
রাষ্ট্রপতির সিলেট সফরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রস্তুতি নেওয়া হয়। সফরের অংশ হিসেবে তিনি পবিত্র মাজার জিয়ারতসহ নির্ধারিত কর্মসূচিতে অংশ নেন।
হযরত শাহজালাল (র.)-এর মাজার সিলেটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থাপনা। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিবছর অসংখ্য মানুষ এই মাজারে জিয়ারতের জন্য আসেন। রাষ্ট্রপতির সফরেও মাজার এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়।
মাজার জিয়ারত শেষে রাষ্ট্রপতি হযরত শাহপরাণ (রহ.)-এর মাজারের দিকে রওনা হন। সেখানে তাঁর জিয়ারত করার কথা রয়েছে। রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে সিলেট নগরীতে নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে সিলেট সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে নগরভবনের সামনে নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে। এ সংবর্ধনায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
রাষ্ট্রপতির সিলেট সফরের কর্মসূচিকে ঘিরে নগরীতে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তাঁর আগমন ও মাজার জিয়ারত উপলক্ষে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আগ্রহ দেখা যায়। মাজার এলাকায় রাষ্ট্রপতির অবস্থানকালে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন।
সফরসূচি অনুযায়ী, সিলেটের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থাপনাগুলোতে জিয়ারত এবং নাগরিক সংবর্ধনায় অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতির দিনের কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে থাকা মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনের কর্মকর্তারাও বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন।
রাষ্ট্রপতির মাজার জিয়ারতকে কেন্দ্র করে সিলেটের স্থানীয় মানুষও তাঁকে শুভেচ্ছা জানান। সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষদের রাষ্ট্রপতির গাড়িবহর অতিক্রম করার সময় হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানাতে দেখা যায়। রাজনৈতিক নেতাকর্মীরাও বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে তাঁকে স্বাগত জানান।
রাষ্ট্রপতির সিলেট সফরের পরবর্তী কর্মসূচি ও হযরত শাহপরাণ (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত শেষে তিনি কোথায় যাবেন, তা তাঁর নির্ধারিত সফরসূচি অনুযায়ী পরিচালিত হবে।