চীনের সঙ্গে চুক্তি নয়, আলোচনা চলছে: তথ্য উপদেষ্টা
চীনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে—এমন কোনো কথা তিনি বলেননি বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে চীনের সঙ্গে আলোচনা চলমান রয়েছে এবং সেই আলোচনার প্রেক্ষাপটেই তিনি আগের ব্রিফিংয়ে বক্তব্য দিয়েছিলেন।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক আগের বক্তব্যের সঙ্গে পরবর্তী বক্তব্যের অসঙ্গতি তুলে ধরলে এ ব্যাখ্যা দেন তথ্য উপদেষ্টা।
ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকের পক্ষ থেকে বলা হয়, আগের এক বক্তব্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে চীনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে চুক্তি হয়ে গেছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা জানিয়েছেন, ওই বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা এখনও চলছে। ফলে সরকারের বক্তব্যে পরস্পরবিরোধী তথ্য পাওয়া যাচ্ছে কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।
জবাবে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, তিনি কখনো বলেননি যে চীনের সঙ্গে চুক্তি হয়ে গেছে। তাকে জানানো হয়েছিল, চীনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা চলছে। সেই আলোচনার প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করতেই তিনি আগের ব্রিফিংয়ে বক্তব্য দিয়েছিলেন।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি চুক্তি হয়ে গেছে বলিনি। আমাকে জানানো হয়েছিল চীনের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে। কেন বেশি দামে আলোচনা হচ্ছে—আমি সেই আলোচনার ব্যাখ্যা দিচ্ছিলাম।’
তিনি আরও বলেন, তার বক্তব্যকে ‘চুক্তি হয়ে গেছে’ হিসেবে উপস্থাপন করা সঠিক নয়। আলোচনার কোনো একটি পর্যায়কে চূড়ান্ত চুক্তি হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই বলেও তার বক্তব্যে বিষয়টি স্পষ্ট হয়।
সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে মূলত সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম ও সাম্প্রতিক বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা। এ সময় চীনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আলোচনার বিষয়টি সামনে এলে তিনি আগের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেন।
সরকারের পক্ষ থেকে চীনের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা চলমান থাকার কথা জানানো হলেও আলোচনার বিষয়বস্তু বা সম্ভাব্য চুক্তির বিস্তারিত কোনো তথ্য এ ব্রিফিংয়ে তুলে ধরা হয়নি। তথ্য উপদেষ্টা মূলত তার আগের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে জানান, সেটিকে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার ঘোষণা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।
এর আগে তার বক্তব্যের ভিত্তিতে চীনের সঙ্গে কোনো একটি বিষয়ে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে—এমন সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়। পরবর্তীতে সরকারের অন্য একজন উপদেষ্টা আলোচনাটি এখনও চলমান রয়েছে বলে জানালে দুই বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
এই প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবারের ব্রিফিংয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন জাহেদ উর রহমান। তিনি জানান, তার বক্তব্যের উদ্দেশ্য ছিল চীনের সঙ্গে চলমান আলোচনার প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করা, কোনো চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার ঘোষণা দেওয়া নয়।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলা এবং সেই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চুক্তি সম্পন্ন হওয়া এক বিষয় নয়। ফলে আলোচনার পর্যায়ের তথ্যকে চূড়ান্ত চুক্তি হিসেবে প্রকাশ করা বিভ্রান্তিকর হতে পারে।
চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে সম্পর্ক রয়েছে। বাণিজ্য, অবকাঠামোসহ বিভিন্ন বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও আলোচনা হয়ে থাকে। তবে মঙ্গলবারের ব্রিফিংয়ে আলোচিত নির্দিষ্ট বিষয়টির ক্ষেত্রে কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়েছে কি না—সে বিষয়ে তথ্য উপদেষ্টা সরাসরি জানান, চুক্তি হয়ে গেছে এমন কথা তিনি বলেননি।
ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেওয়ার সময় তিনি তার আগের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে বক্তব্যের যথাযথ প্রেক্ষাপট বিবেচনার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। তার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত ‘চুক্তি হয়ে গেছে’ ধরনের সংবাদকে তিনি নিজের বক্তব্যের সঠিক উপস্থাপন হিসেবে মানতে চাননি।
তথ্য উপদেষ্টার বক্তব্যের ফলে বিষয়টি নিয়ে সরকারের অবস্থান সম্পর্কে একটি বিষয় পরিষ্কার হয়েছে—চীনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ওই বিষয়ে আলোচনা এখনও চলছে এবং সেটিকে চূড়ান্ত চুক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি।
মঙ্গলবারের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এ বক্তব্যের মাধ্যমে আগের মন্তব্য নিয়ে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি দূর করার চেষ্টা করেন ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি আবারও বলেন, চীনের সঙ্গে আলোচনা চলার বিষয়টি তিনি ব্যাখ্যা করেছিলেন; চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার কোনো ঘোষণা তার বক্তব্যে ছিল না।