মনির হোসেন, মোংলা
দেশের দ্বিতীয় সামুদ্রিক বন্দর মোংলায় আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বাড়ায় রাজস্ব আয়েও ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ মোট ৩৮৭ কোটি ৯৫ লাখ টাকা আয় করেছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৫৩ কোটি টাকা বেশি।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বন্দরের রাজস্ব আয় ছিল ৩৪৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। ওই অর্থবছরে নিট মুনাফা হয় ৬২ কোটি ১০ লাখ টাকা। বিপরীতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮৭ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। তবে এ সময়ে নিট মুনাফা হয়েছে ৪৭ কোটি টাকা।
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে বন্দরের আয় থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হয়। এ কারণে প্রতিবছর রাজস্ব আয়ের প্রায় ৭০ থেকে ৮৫ শতাংশ বিভিন্ন খাতে ব্যয় হয়ে থাকে।
এদিকে নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে রেকর্ড করেছে মোংলা বন্দর। এ সময়ে বন্দর দিয়ে ২৯ হাজার ৭১৪ টিইইউ (TEU) কনটেইনার পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছিল ২১ হাজার ৪৫৬ টিইইউ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে কনটেইনার হ্যান্ডলিং বেড়েছে ৮ হাজারের বেশি টিইইউ।
এ সময়ে মোংলা বন্দরে বিদেশি জাহাজ এসেছে ৮১৫টি।
বন্দরের হারবার মাস্টার ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম বলেন, ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং আমদানি-রপ্তানিকারকদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। বড় ড্রাফটের জাহাজের আগমন বাড়াতে বন্দর চ্যানেলে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও ড্রেজিং কার্যক্রম চলছে। পাশাপাশি হিরণ পয়েন্ট এলাকায় নতুন করে তিনটি অ্যাংকরেজ বার্থ ঘোষণা করা হয়েছে।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা বলেন, মোংলা বন্দরকে কেন্দ্র করে চীনসহ দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের ব্যাপক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, চীনের সহায়তায় বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) মাধ্যমে মোংলা বন্দরে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি বন্দরে কনটেইনার টার্মিনাল চালু হলে এর সুফল আরও ব্যাপকভাবে পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে খুলনা-বাগেরহাটসহ দক্ষিণাঞ্চলে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।