নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে শুরু হয়েছে। বহুল আলোচিত এই বৈঠকে সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতনকাঠামো বা নবম জাতীয় পে-স্কেলের চূড়ান্ত প্রস্তাব উপস্থাপনের কথা রয়েছে। ফলে বৈঠকটি ঘিরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বৈঠক শেষে সন্ধ্যা ৭টায় তথ্য মন্ত্রণালয়ের পিআইডি সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো গণমাধ্যমকে জানানো হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নতুন পে-স্কেলের প্রস্তাবে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, সর্বনিম্ন মূল বেতন বর্তমান ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৬ হাজার ৫০০ টাকা করার সুপারিশ রয়েছে। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ২৪ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতনকাঠামোর দাবি ও আলোচনা চলছিল। বিভিন্ন পর্যায়ে পর্যালোচনা ও সুপারিশের পর এবার সেই প্রস্তাব মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপনের পর্যায়ে এসেছে। সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি এবং বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় রেখেই নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়ন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
তবে বৈঠকে উপস্থাপিত প্রস্তাবটি অনুমোদন পেলেই তা সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হবে না। মন্ত্রিসভা অনুমোদনের পর প্রস্তাবটি আইনি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য পাঠানো হবে। এরপর প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সরকারি গেজেট প্রকাশ করা হবে। গেজেট জারির পর নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর করার বিষয়ে পরবর্তী নির্দেশনা দেওয়া হবে।
নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়িত হলে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন গ্রেডের বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধার বিষয়েও সংশোধনী থাকতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা রয়েছে। যদিও এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পরই জানা যাবে।
এদিকে মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন পে-স্কেল ছাড়াও প্রশাসনিক ও নীতিগত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনায় আসতে পারে বলে জানা গেছে। তবে বৈঠকের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত কোন কোন প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে, সে বিষয়ে সরকারিভাবে কিছু জানানো হয়নি।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও নজর এখন মন্ত্রিসভার এই বৈঠকের দিকে। বিশেষ করে নতুন জাতীয় পে-স্কেল অনুমোদনের বিষয়ে বৈঠক শেষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।