ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি: আব্দুস সালাম মোল্লা
ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার বাদুল্লা মাতুব্বরের ডাঙ্গি গ্রামের শত বছরের পুরোনো সরকারি খাল দখলমুক্ত করার অভিযানে নিলামে বিক্রি করা মালামাল নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনা দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, নিলামে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে মালামাল কিনে নেওয়া ব্যক্তি পরে সেগুলো খাল দখলের অভিযোগে অভিযুক্ত সায়েদ মোল্লার কাছে দিয়ে দিয়েছেন। এমনকি নিলামে দেওয়া ১০ হাজার টাকার অর্থও সায়েদ মোল্লা পরিশোধ করেছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাদুল্লা মাতুব্বরের ডাঙ্গি গ্রামের সরকারি খালের একটি অংশ দখল করে বালু ভরাট, পাইলিং ও বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনায় প্রশাসনের নজরে এলে চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জুলহাস হোসেন সৌরভ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর ভরাট করা অংশের বালু সরিয়ে খালটি উন্মুক্ত করতে সায়েদ মোল্লাকে চার দিনের সময় দেওয়া হয়। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খালটি দখলমুক্ত না করায় প্রায় ১৫ দিন পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেখানে পুনরায় অভিযান চালানো হয়।
এ ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে খালটি দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে অপসারণ করা বালু ও অন্যান্য মালামাল স্পট নিলামের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে খাল দখলের কাজে ব্যবহৃত ভরাট বালু, পাইলিংয়ের বাঁশ, সিমেন্টের রিং পাইপসহ বিভিন্ন মালামাল প্রকাশ্য নিলামে বিক্রি করা হয়। নিলামে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা দর দিয়ে দিপু খান মালামালগুলো কিনে নেন বলে জানা গেছে।
তবে নিলামের পর এসব মালামাল আবার সায়েদ মোল্লার কাছে চলে যাওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের চোখ এড়িয়ে দিপু খান নিলামে মালামাল কিনে পরে সেগুলো সায়েদ মোল্লাকে দিয়ে দেন। নিলামের ১০ হাজার টাকাও সায়েদ মোল্লা পরিশোধ করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। তাদের প্রশ্ন, সরকারি খাল দখলমুক্ত করতে প্রশাসনের অভিযানে জব্দ বা অপসারণ করা মালামাল যদি আবার দখলের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছে ফিরে যায়, তাহলে এ ধরনের নিলামের কার্যকারিতা কতটা থাকে।
এ বিষয়ে দিপু খানের কাছে জানতে চাইলে তিনি নিলামে নিজে অংশগ্রহণ করে মালামাল কেনার কথা স্বীকার করেন। পরে এসব মালামাল সায়েদ মোল্লার কাছে কেন দেওয়া হয়েছে—জানতে চাইলে তিনি বলেন, মানবিক দিক বিবেচনা করে মালামালগুলো তাকে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর বিনিময়ে কোনো লাভ নেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে, নিলামে অংশগ্রহণ ও মালামাল নেওয়ার বিষয়ে সায়েদ মোল্লার বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জুলহাস হোসেন সৌরভ বলেন, সায়েদ মোল্লা নিজে নিলামে অংশ নিতে পারেন এবং অন্য কারও মাধ্যমে মালামাল কিনতেও পারেন। তার মাল—এতে আইনে কোনো বাধা নেই। প্রশাসনের মূল বিষয় হলো খালটি দখলমুক্ত হয়েছে কি না, সেটি দেখা।স্থানীয়দের দাবি, নিলামে বিক্রি করা মালামাল পরে আবার খাল দখলের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছে চলে যাওয়ার ঘটনায় প্রশাসনের দখলমুক্ত অভিযান নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে সরকারি খালটি বর্তমানে সম্পূর্ণ দখলমুক্ত ও উন্মুক্ত রয়েছে কি না, তা প্রশাসনের সরেজমিন যাচাইয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।