দেশের সরকারি ও বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলোতে এমবিবিএস শিক্ষার্থীদের ভর্তির আসন প্রয়োজন অনুযায়ী বাড়ানোর বিষয়টি পর্যালোচনা করছে সরকার। অবকাঠামো, শিক্ষকসংখ্যা এবং শিক্ষার্থীদের ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণের সুযোগ বিবেচনায় নিয়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. জাহান্দার আলী মিয়ার এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে বিকেল ৩টায় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়।
দেশে এমবিবিএসের ১১ হাজার ৩৭৮ আসন
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে মোট ১০৫টি মেডিক্যাল কলেজ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে এমবিবিএস শিক্ষার্থীদের জন্য মোট ১১ হাজার ৩৭৮টি আসন রয়েছে।
এর মধ্যে ৩৭টি সরকারি মেডিক্যাল কলেজে আসন সংখ্যা ৫ হাজার ১০০টি। অন্যদিকে, ৬৮টি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে রয়েছে ৬ হাজার ২৭৮টি আসন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসা ও নার্সিং শিক্ষার পরিধি বাড়ানো, শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং গুণগত মান নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এসব উদ্যোগের অংশ হিসেবে বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা মূল্যায়ন করে মেডিক্যাল কলেজে আসন বাড়ানোর বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
বাড়ছে উপজেলা পর্যায়ের চিকিৎসাসেবা
সংসদে দেশের হাসপাতালগুলোর শয্যা সক্ষমতার তথ্যও তুলে ধরেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, সরকারি হাসপাতালগুলোতে অনুমোদিত শয্যা রয়েছে প্রায় ৭১ হাজার ৬৬০টি। বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের শয্যা সংখ্যা প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা ও নিবন্ধনের পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিয়মিত পরিবর্তিত হয়।
উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। দেশের সব ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে পর্যায়ক্রমে ১৫১ শয্যার আধুনিক হাসপাতালে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
থাকবে মা ও শিশুর জন্য আলাদা শয্যা
পরিকল্পনা অনুযায়ী, উন্নীত করা এসব হাসপাতালে প্রসূতি ও গর্ভবতী মায়েদের জন্য ২৫টি শয্যা এবং শিশুদের জন্য ২০টি শয্যা রাখা হবে।
এ ছাড়া কিডনি রোগীদের চিকিৎসায় ১০টি ডায়ালাইসিস শয্যা ও মেশিন স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে এসব হাসপাতালে আইসিইউ এবং ফিজিওথেরাপি সেবা চালুর ব্যবস্থাও রাখা হবে।
নিয়োগ দেওয়া হবে চিকিৎসক ও নার্স
বর্ধিত চিকিৎসাসেবা পরিচালনার জন্য জনবল বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৫ হাজার চিকিৎসক ও ২ হাজার ৫০০ নার্স নিয়োগের প্রশাসনিক অনুমোদন ও নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
সরকারের এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে একদিকে মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির সুযোগ বাড়বে, অন্যদিকে উপজেলা পর্যায়েও উন্নত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ সম্প্রসারিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।