সুন্দরবনের নিরাপত্তা ও নৌপথ সুরক্ষায় মোংলায় কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী, পুলিশ ও প্রশাসনের যৌথ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত। জানুন পর্যটক সুরক্ষা ও অপরাধ দমনের মূল সিদ্ধান্তসমূহ।
সুন্দরবনের নিরাপত্তা ও নৌপথ সুরক্ষায় কোস্টগার্ডের সমন্বয় সভা
নিজস্ব প্রতিবেদক, মোংলা
সুন্দরবনের নিরাপত্তা জোরদার এবং উপকূলীয় নৌপথের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এক সমন্বয় সভার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন। রবিবার বেলা ১১টায় মোংলা কোস্টগার্ড বেইসে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অংশগ্রহণে এ গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত সভায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বিজিবি, র্যাব, স্থানীয় পুলিশ, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ, বন বিভাগ এবং উপজেলা প্রশাসনের শীর্ষ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া সুন্দরবন সংশ্লিষ্ট রিসোর্ট অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরাও মতবিনিময়ে অংশ নেন।
অপরাধ দমন ও সমন্বিত উদ্যোগ সভায় সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা ও উপকূলীয় অঞ্চলের পরিস্থিতি তুলে ধরে কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের এরিয়া কমান্ডার মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম জানান, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জলপথ ও বন সুরক্ষায় যৌথ নজরদারি জরুরি। সুন্দরবন এলাকায় দস্যুতা রোধ, যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকানো এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সমন্বিত পদক্ষেপই অপরাধ নির্মূল করতে সক্ষম।
পর্যটক সুরক্ষা ও জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত সুন্দরবনে ভ্রমণরত দেশি-বিদেশি পর্যটক ও জলযানের সুরক্ষায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সভায়:
যোগাযোগ প্রযুক্তি নিশ্চিতকরণ: সুন্দরবনে চলাচলকারী সকল ট্যুরিস্ট জাহাজে এআইএস (AIS) ও ভিএইচএফ (VHF) ওয়্যারলেস যোগাযোগ ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক ও সার্বক্ষণিক সচল রাখা।
লাইফ-সেভিং ইকুইপমেন্ট: অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, লাইফ জ্যাকেট ও প্রয়োজনীয় জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম জাহাজে মজুদ রাখা।
জরুরি স্বাস্থ্যসেবা: ভ্রমণে যেকোনো আকস্মিক দুর্ঘটনায় দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা প্রদানে বিশেষ প্রস্তুতি।
বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ রক্ষা: সুন্দরবনের সংরক্ষিত বনাঞ্চল, বন্যপ্রাণী শিকার বন্ধ এবং জলপথে যত্রতত্র বর্জ্য ফেলা রোধে কঠোর নজরদারি।
অপরাধ প্রতিরোধ: জলপথে নৌ-ডাকাতি, ছিনতাই ও বনজ সম্পদ পাচার বন্ধে যৌথ টহল জোরদার করা।
উক্ত সমন্বয় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন কোস্টগার্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কমান্ডার সঞ্জীব কুমার দে, কমান্ডার শাহ কামরুজ্জামান এবং লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মাহবুব হোসেনসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।
উপকূলীয় জলসীমা ও সুন্দরবনের অভ্যন্তরীণ নৌপথে সাধারণ মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ভবিষ্যতেও এমন যৌথ অভিযান ও সমন্বয় কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়।