প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তাবেষ্টনীতে ঢোকার চেষ্টা, মহিবুল্লাহর ৫ দিনের রিমান্ড
রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিরাপত্তাবেষ্টনী অতিক্রম করে মোটরসাইকেল নিয়ে বহরে ঢুকে পড়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার মো. মহিবুল্লাহ মুবিনের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হকের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আসাদুর রহমান আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
মামলাটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা হয়েছে। পুলিশের আবেদনের ওপর শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মহিবুল্লাহ কী উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তাবেষ্টনী অতিক্রম করেছেন, কারও নির্দেশ বা প্ররোচনা ছিল কি না এবং ঘটনার পেছনে কোনো পরিকল্পনা বা চক্রান্ত রয়েছে কি না, তা তদন্তের স্বার্থে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী রবিউল ইসলাম জুয়েল রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন। তিনি আদালতকে বলেন, মহিবুল্লাহ কোনো নাশকতার উদ্দেশ্যে সেখানে যাননি। আবেগতাড়িত হয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছবি তোলার চেষ্টা থেকেই তিনি নিরাপত্তাবেষ্টনী অতিক্রম করেছেন বলে দাবি করেন আইনজীবী। এ ছাড়া তার কাছে কোনো নাশকতার অস্ত্র পাওয়া যায়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আসামিপক্ষ আরও দাবি করে, মহিবুল্লাহর পরিবারের কয়েকজন সদস্য বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তবে এসব যুক্তি বিবেচনার পর আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, গত ৫ সেপ্টেম্বর বিকেলে তেজগাঁও থানার মনিপুরীপাড়ায় কেআইবি মিলনায়তনের সামনে বিএনপি আয়োজিত একটি আলোচনা সভা চলছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মিলনায়তনে প্রবেশের আগে মহিবুল্লাহ মুবিন কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে নিরাপত্তাবেষ্টনী অতিক্রম করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, মহিবুল্লাহ ‘বরিশাল মেট্রো-ল-১৩-১৪৯৩’ নম্বরের একটি ইয়ামাহা এফজেডএস-১৫০ সিসি মোটরসাইকেল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বহরে ঢুকে পড়েন। এর মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং দেশের স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকেই মহিবুল্লাহকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল, দুটি পাসপোর্ট এবং দুটি ওপ্পো মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। তবে তার সঙ্গে থাকা অন্য সহযোগীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
পুলিশের দাবি, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত উদ্দেশ্য, সহযোগীদের পরিচয়, কারও নির্দেশনা বা প্ররোচনা ছিল কি না এবং জব্দ করা আলামতের সঙ্গে ঘটনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হবে।
আদালতের আদেশের পর মহিবুল্লাহ মুবিনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, তা বেরিয়ে আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।