1. dailymorningvoice@gmail.com : dailymorningvoice : ismail hossain
  2. jahid@gmail.com : jahid hasan : jahid hasan
  3. hafejjubayera@gmail.com : Jubayer Ahmad : Jubayer Ahmad
ইরান যুদ্ধের ঝুঁকিতেও খাদ্য নিরাপত্তায় আগাম প্রস্তুতি সরকারের
Tuesday, 08 September 2026, 02:53 pm

ইরান যুদ্ধের ঝুঁকিতেও খাদ্য নিরাপত্তায় আগাম প্রস্তুতি সরকারের

  • Update Time : Tuesday, 8 September, 2026, 02:26 pm
  • 4 Time View
ইরান যুদ্ধের ঝুঁকিতেও খাদ্য নিরাপত্তায় আগাম প্রস্তুতি সরকারের
ইরান যুদ্ধের ঝুঁকিতেও খাদ্য নিরাপত্তায় আগাম প্রস্তুতি সরকারের




ইরান যুদ্ধের ঝুঁকিতেও খাদ্য নিরাপত্তায় আগাম প্রস্তুতি সরকারের

 

মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য বড় ধরনের যুদ্ধ এবং এর প্রভাবে বৈশ্বিক খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় সংকট তৈরির আশঙ্কা বিবেচনায় বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

 

তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির পাশাপাশি জলবায়ুগত ঝুঁকিও সরকারের পরিকল্পনায় রাখা হয়েছে। বিশেষ করে সম্ভাব্য এল নিনোর প্রভাবে কৃষি উৎপাদন কমে যাওয়া এবং আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা নিয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে।

 

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তথ্য উপদেষ্টা।

 

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা

 

ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, কয়েক দিন আগে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দেশের খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন। বৈশ্বিক পরিস্থিতির সম্ভাব্য পরিবর্তন এবং এর প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রস্তুতি নিয়েই ওই আলোচনায় গুরুত্ব দেওয়া হয়।

 

তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বড় আকার ধারণ করলে শুধু ওই অঞ্চলের দেশগুলোই নয়, এর প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতি ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও পড়তে পারে। বিশেষ করে জ্বালানি, সার ও খাদ্যের আন্তর্জাতিক সরবরাহে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

 

তথ্য উপদেষ্টার ভাষ্য, আন্তর্জাতিক বাজারে কোনো পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হলে তার প্রভাব বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর বাজারেও পড়তে পারে। এ কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

 

এল নিনোর প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ

 

খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে শুধু যুদ্ধ বা আন্তর্জাতিক সংঘাত নয়, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে বলে জানান জাহেদ উর রহমান।

 

তিনি বলেন, এল নিনো পরিস্থিতি আরও তীব্র হলে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে কৃষি উৎপাদন কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাত্রা বাড়তে পারে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যপণ্যের সরবরাহ কমে গিয়ে দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

 

এই সম্ভাব্য পরিস্থিতি বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। তাই বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতি ও আবহাওয়াজনিত ঝুঁকি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ মজুত ব্যবস্থা শক্তিশালী রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

 

সরকারি খাদ্য মজুত শক্তিশালী

 

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, দেশের সরকারি খাদ্য মজুত বর্তমানে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। তবে ভবিষ্যতে পরিস্থিতির প্রয়োজন হলে এই মজুত আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

তার বক্তব্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক সংকট মোকাবিলায় পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত রাখা সরকারের প্রস্তুতির অন্যতম অংশ। আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হলেও যাতে দেশের অভ্যন্তরীণ খাদ্য সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

 

তিনি জানান, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু খাদ্য মজুত নয়, কৃষি উৎপাদন, সার সরবরাহ ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলোও সমন্বিতভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

 

জ্বালানি ও সারের সরবরাহ নিয়ে শঙ্কা

 

মধ্যপ্রাচ্যের সম্ভাব্য সংঘাতের প্রভাব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ দিয়ে শুধু জ্বালানি নয়, বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সারও পরিবহন করা হয়।

 

ফলে যুদ্ধ যদি বড় আকার ধারণ করে, তাহলে আন্তর্জাতিক নৌপথ ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটতে পারে। এতে জ্বালানির পাশাপাশি সারের সরবরাহও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

সারের সরবরাহে সমস্যা দেখা দিলে কৃষি উৎপাদনের ওপর তার প্রভাব পড়তে পারে। আর কৃষি উৎপাদন কমে গেলে খাদ্য সরবরাহ এবং বাজারদর—দুই ক্ষেত্রেই চাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এ কারণে খাদ্য ও সারের মজুত পরিস্থিতিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

স্থানীয় সার উৎপাদনেও চাপ

 

দেশের গ্যাস সংকটের কারণে স্থানীয় সার কারখানাগুলোর উৎপাদনেও চাপ রয়েছে বলে জানান তথ্য উপদেষ্টা। এই বাস্তবতায় আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সারের সরবরাহে কোনো ধরনের সমস্যা দেখা দিলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে।

 

তিনি বলেন, এ কারণেই সরকার একই সঙ্গে সার ও খাদ্যের মজুত ঠিক রাখার চেষ্টা করছে। সম্ভাব্য সংকটের আগে পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করা গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ ব্যাহত হলেও দেশের কৃষি ও খাদ্য ব্যবস্থায় তাৎক্ষণিক বড় ধরনের চাপ কমানো সম্ভব হবে।

 

সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব

 

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খাদ্য, কৃষি, জ্বালানি এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মধ্যে সমন্বিতভাবে কাজ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জাহেদ উর রহমান।

 

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন ও অভ্যন্তরীণ উৎপাদন পরিস্থিতি—সবকিছুকে একসঙ্গে বিবেচনা করেই পরিকল্পনা সাজাতে হবে। শুধু একটি খাতের ওপর নির্ভর করে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

 

সরকারের প্রস্তুতির মূল লক্ষ্য হলো সম্ভাব্য বৈশ্বিক সংকটের প্রভাব দেশের মানুষের খাদ্য সরবরাহের ওপর যতটা সম্ভব সীমিত রাখা। এ জন্য সরকারি মজুত, কৃষি উৎপাদন, সার সরবরাহ ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনাকে সমন্বিতভাবে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

 

তথ্য উপদেষ্টার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য ইরান যুদ্ধের প্রভাব শুধু জ্বালানি বা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে খাদ্য ও কৃষি খাতেও পড়তে পারে। তাই সংকট তৈরি হওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে আগেই সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিত করে প্রস্তুতি নেওয়ার পথেই এগোচ্ছে সরকার।

Facebook Comments Box
Please follow and like us:
Pin Share
More News Of This Category